Home আইন-আদালত গৃহকর্মীর ওপর পৈশাচিক নির্যাতন, বিমানের এমডি স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার

গৃহকর্মীর ওপর পৈশাচিক নির্যাতন, বিমানের এমডি স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজধানীর উত্তরায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো. শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বীথির বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী মোহনাকে দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক ও লোমহর্ষক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
গৃহকর্মী মোহনা হাসপাতালে। সংগৃহীত ছবি
নির্যাতনের লোমহর্ষক বিবরণ

ভুক্তভোগী শিশু মোহনার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে খোদ পুলিশ ও চিকিৎসকরাও স্তম্ভিত। মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে:

শরীরে পোড়া ও কাটা দাগ: মোহনার পুরো শরীরে আগুনের পোড়া চিহ্ন এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার হাতে গভীর কাটা ও সেলাইয়ের দাগ রয়েছে।

গুরুতর জখম: শিশুটির মুখে ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নির্যাতনের ভয়াবহতায় সে বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারছে না; তাকে কেবল তরল খাবার ও ভিজিয়ে রাখা রুটি অল্প অল্প করে খাওয়ানো হচ্ছে।

চিকিৎসা অবস্থা: গুরুতর আহত মোহনা বর্তমানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তার বাবার ভাষ্যমতে, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

যেভাবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে

মোহনার বাবা মোস্তফা জানান, প্রায় সাত-আট মাস আগে এক নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠিয়েছিলেন। প্রথম কয়েক মাস সুস্থ থাকলেও সম্প্রতি তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু হয়। গত শনিবার বীথি (বিমানের এমডির স্ত্রী) তাকে মেয়েকে নিয়ে যেতে বলেন। মোস্তফা সেখানে গেলে তাকে একটি সাদা কাগজে জোরপূর্বক সই করিয়ে নেওয়া হয়। রাতে মেয়েকে হাতে পাওয়ার পর তার শরীরের ক্ষতবিক্ষত অবস্থা দেখে আঁতকে ওঠেন বাবা।

আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতার

নির্যাতিতা শিশুর বাবার দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ আজ ভোর রাত ৩:৩০ মিনিটে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের বাসভবনে অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন: ১. মো. শফিকুর রহমান (বিমানের এমডি ও সিইও) ২. বীথি (শফিকুর রহমানের স্ত্রী) ৩. রূপালী খাতুন (গৃহকর্মী) ৪. সুফিয়া বেগম (গৃহকর্মী)

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রোমেল মিয়া আজ আসামিদের আদালতে হাজির করলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তে বিমানের এমডির সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী মো. রফিক আহমেদ জানিয়েছেন, ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে শিশু আইন, ২০১৩ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

শিশু মোহনার বাবা মোস্তফা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি একজন অসহায় বাবা। আমার মেয়ের ওপর যে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”