Home আকাশ পথ যাত্রীবাহী আকাশের রাজা বোয়িং ৭৪৭-এর অবসান, তবুও কিছু ক্ষেত্রে ‘জাম্বো জেট’-এর ব্যবহার

যাত্রীবাহী আকাশের রাজা বোয়িং ৭৪৭-এর অবসান, তবুও কিছু ক্ষেত্রে ‘জাম্বো জেট’-এর ব্যবহার

এভিয়েশন ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েক দশক বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীকী যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হিসেবে পরিচিত বোয়িং ৭৪৭ অবশেষে বিদায় নিয়েছে আকাশ থেকে। সর্বশেষ ও সবচেয়ে বড় সংস্করণ বোয়িং ৭৪৭-৮, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১৫০টির বেশি নির্মিত হয়েছিল। তবে বৈশ্বিক বিমান পরিবহন এখন ছোট, জ্বালানি-সাশ্রয়ী এবং সরাসরি গন্তব্যে উড্ডয়নে সক্ষম উড়োজাহাজের দিকে ঝুঁকায়, যার ফলে ৭৪৭-৮-এর ব্যবহার দ্রুত কমে যাচ্ছে।

কেন অপছন্দের তালিকায় ৭৪৭-৮
বড় আকারের উড়োজাহাজ যেমন বোয়িং ৭৪৭-৮ এবং এয়ারবাস এ৩৮০ একসময় জনপ্রিয় ছিল মূলত প্রচুর যাত্রী বহনের সক্ষমতার জন্য। এসময় এয়ারলাইনগুলো ‘হাব-অ্যান্ড-স্পোক’ মডেল ব্যবহার করত—অর্থাৎ ৭৪৭ের মতো বিমানে যাত্রী আনা-নেওয়া হতো বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, সেখান থেকে ছোট আঞ্চলিক বিমানে যাত্রী পৌঁছে যেত স্থানীয় বিমানবন্দরে।

কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতিতে (যেমন উচ্চ বাইপাস টার্বোফ্যান ইঞ্জিন) ছোট আকারের ও দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট ওয়াইডবডি বিমানের (যেমন এয়ারবাস এ৩৫০ ও বোয়িং ৭৮৭) দীর্ঘপাল্লার ক্ষমতা বেড়েছে এবং তারা বেশিরভাগ বিমানবন্দরে অবতরণ করতে সক্ষম। এর ফলে এয়ারলাইনগুলো ‘পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট’ মডেলে চলে এসেছে, যেখানে যাত্রীরা সরাসরি গন্তব্যে উড়তে পারেন। এ শিল্প পরিবর্তনই ধীরে ধীরে ৭৪৭-কে সেবা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ ৭৪৭ যাত্রীবাহী ফ্লাইট ২০১৭ সালে অবসরে পাঠায় ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও ডেল্টা এয়ার লাইনস। উৎপাদিত ১,৫৭৩টি ৭৪৭-এর মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৪২৬টি সক্রিয় রয়েছে।

ভবিষ্যৎ: সংগ্রহশালা, কার্গো ও সেনাবাহিনীতে ব্যবহার
পুরনো ৭৪৭-গুলো রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতায় ধীরে ধীরে গ্রাউন্ডেড হয়ে পড়ছে, এবং শত শত ইতোমধ্যেই ভেঙে ফেলা হয়েছে বা রিসাইকেল হয়েছে। কিছু ৭৪৭কে সংরক্ষণ করা হয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের দেখার জন্য—যেমন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের স্পেস সেন্টারে সংরক্ষিত একটি বিখ্যাত ৭৪৭।

তবে দুর্ঘটনাজনিত কারণে এ পর্যন্ত ৬৪টি ৭৪৭ ধ্বংস হয়েছে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৪%। যাত্রীবাহী ব্যবহারে পতন হলেও কার্গো, সামরিক ও সরকারি কাজে এখনো কিছু ৭৪৭ আকাশে উড়ছে, যা এই ‘জাম্বো জেট’-এর দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার বহন করছে।