রাজা হত্যাকাণ্ডে পরিকল্পনার ছক আগে থেকেই আঁকা ছিল, দাবি রঘুবংশী পরিবারের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সোনম রঘুবংশী সম্পর্কে বিস্ফোরক দাবি করলেন মৃত রাজার পরিবারের সদস্যরা। রাজার ভাই বিপিন রঘুবংশীর অভিযোগ, বিয়ের আগেই প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে সম্পর্কের কথা মাকে জানিয়েছিলেন সোনম। এমনকি, জোর করে বিয়ে দিলে ‘ভয়ঙ্কর পরিণতি’ হতে পারে বলেও মাকে হুঁশিয়ার করেছিলেন তিনি। এসব তথ্য সোনমের ভাই গোবিন্দের মুখ থেকেই জানা বলে দাবি বিপিনের।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোনমের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছে রঘুবংশী পরিবার। তারা বলছে, একটি গোটা পরিবারের ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পেছনে শুধুই প্রেমের সম্পর্ক নয়, ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পনা ও প্রতারণার জাল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের অনেক আগেই রাজা রঘুবংশীকে খুনের ছক কষা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, সোনমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল অভিযুক্ত রাজ কুশওহার। এই রাজই নাকি ভাড়াটে খুনি নিয়োগে সহায়তা করেছিলেন।
মেঘালয় পুলিশ এখনো পর্যন্ত সোনম ও অন্য অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতে পারেনি। নথিপত্র ও প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে পূর্ণোদ্যমে জেরা শুরুর কথা জানিয়েছেন পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার সহকারী পুলিশ সুপার। তাঁর মতে, সোনমের জড়িত থাকার ‘প্রাথমিক ও সুস্পষ্ট প্রমাণ’ পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, পাহাড়ি রিসোর্টে রাজা ও সোনম ঘোরার ছলে যে তিন হিন্দিভাষী যুবকের সঙ্গে ছিলেন—তারাই ছিল ভাড়াটে খুনি। এই তথ্য দিয়েছিলেন এক স্থানীয় ট্যুর গাইড, যিনি ২৩ মে তাঁদের একসঙ্গে পাহাড়ে উঠতে দেখেছিলেন। সেদিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন রাজা ও সোনম। পরে ২ জুন রাজার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় একটি ঝর্ণার ধারে।
সোনমের হঠাৎ গাজিপুরে আত্মসমর্পণ পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পুলিশের দাবি, খুনের পর পালিয়ে মেঘালয় থেকে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কীভাবে পাহাড়ি এলাকা পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর পৌঁছালেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
জেরা শুরুর পর হয়তো জানা যাবে খুনের বিস্তারিত ছক, কারা জড়িত ছিল, কীভাবে পালানোর পরিকল্পনা হয়েছিল এবং আদৌ কি এটি শুধুই প্রেমঘটিত হত্যাকাণ্ড, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও অনুচ্চারিত কারণ।
এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে এখন সারা দেশে আলোড়ন। রাজা রঘুবংশীর ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশ ও মেঘালয়ে সোচ্চার হয়েছেন অনেকেই।






