বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে জামিলাতুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ মার্চ) তাকে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদ থেকে এতেকাফরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটি উপজেলার প্রতিবেশী দৌলতপুর থানার মরিচা ইউনিয়নের বাসিন্দা। গত ৮ মাস আগে তাকে চৈতন্য মোড়ে অবস্থিত ওই মহিলা মাদ্রাসায় আবাসিক ছাত্রী হিসেবে ভর্তি করা হয়েছিল। জানা গেছে, মাদ্রাসার দোতলায় ছাত্রীরা থাকত এবং নিচতলায় অভিযুক্ত সাইদুর রহমান সপরিবারে বসবাস করতেন। মাদ্রাসায় একমাত্র পুরুষ শিক্ষক ছিলেন এই সুপার নিজেই।
গত রোববার মাদ্রাসা ছুটি হলে মা তার সন্তানকে নিতে আসেন। তখন সুপারের স্ত্রী জানান যে, মেয়েটির প্রচণ্ড জ্বর। এরপর তাকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কর্মরত একটি সংস্থার মাধ্যমে খবর পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশ অভিযানে নামে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী শিশুর মা অভিযোগ করেন, ভর্তির সময় মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০-৪৫ জন থাকলেও রহস্যজনকভাবে তা কমে বর্তমানে মাত্র ৭ জনে দাঁড়িয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন: “ওরা আমার মেয়েকে শেষ করে দিয়েছে। আমি এই পশুতুল্য মানুষের কঠিন বিচার চাই।”
সন্তানের এমন অবস্থায় বাকরুদ্ধ বাবা বলেন: “কোরআন শেখানোর জন্য মেয়েকে মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা যে এমন সর্বনাশ করবে তা কল্পনাও করিনি। এরা পশুর চেয়েও জঘন্য।”
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত সুপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান। অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।