রাকেশ দেবনাথ, আগরতলা, ত্রিপুরা: ভারতের রাজনীতিতে ‘সবচেয়ে গরিব মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে পরিচিত মানিক সরকার কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং এক আদর্শিক জীবনধারার প্রতীক। দীর্ঘ দুই দশক (১৯৯৮-২০১৮) ত্রিপুরার শাসনভার সামলানো এই বামপন্থী নেতা বর্তমানেও তাঁর সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে সমাদৃত।
মানিক সরকার ১৯৪৯ সালের ২২ জানুয়ারি ত্রিপুরার উদয়পুরের রাধাকিশোরপুরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা অমূল্য সরকার ছিলেন একজন দর্জি এবং মা অঞ্জলি সরকার ছিলেন একজন রাজ্য সরকারি কর্মচারী। আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম (MBB) কলেজ থেকে তিনি বি.কম (B.Com) ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন।
রাজনৈতিক উত্থান
ছাত্র রাজনীতি: কলেজে পড়ার সময় তিনি স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI)-এর সদস্য হিসেবে সক্রিয় হন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৬৮ সালে তিনি সিপিআই(এম)-এর সদস্যপদ লাভ করেন।
মূল ধারার রাজনীতি: ১৯৭২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য মনোনীত হন। ১৯৮০ সালে তিনি প্রথমবারের মতো আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব: ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা চারবার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন থাকেন।
অনাড়ম্বর ব্যক্তিগত জীবন ও ‘সবচেয়ে গরিব মুখ্যমন্ত্রী’
মানিক সরকার তাঁর সততা এবং বিলাসিতাহীন জীবনের জন্য সারা ভারতে আলোচিত।
সম্পদহীনতা: মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর নিজের কোনো গাড়ি বা বাড়ি ছিল না। এমনকি তিনি ব্যক্তিগত কোনো মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতেন না।
বেতন দান: দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্ত বেতনের পুরো টাকা তিনি দলকে দিয়ে দিতেন এবং দল থেকে মাসিক মাত্র ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার সামান্য ভাতার বিনিময়ে জীবন ধারণ করতেন।
বর্তমান আবাস: ২০১৮ সালে নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি সরকারি বাসভবন ছেড়ে দেন। এরপর তাঁর কোনো নিজস্ব বাসস্থান না থাকায় তিনি তাঁর স্ত্রী পাঞ্চালি ভট্টাচার্যের সাথে আগরতলার দলীয় কার্যালয়ের একটি ছোট ঘরে উঠে যান।











