Home First Lead বুকিং স্থগিত করেছে শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্ক, তৈরি পোশাক খাতে সংকটের আশঙ্কা

বুকিং স্থগিত করেছে শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্ক, তৈরি পোশাক খাতে সংকটের আশঙ্কা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশ্বখ্যাত শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্ক (Maersk) এই অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প এক বহুমুখী সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মায়েরস্ক তাদের সর্বশেষ অ্যাডভাইজরিতে জানিয়েছে, কর্মী ও কার্গোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-
  • বুকিং স্থগিত: ভারতীয় উপমহাদেশ (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা) থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ইরাক, কুয়েত এবং সৌদি আরবের দাম্মাম ও জুবাইল বন্দরের মধ্যে সকল নতুন বুকিং তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
  • বিশেষ পণ্য পরিবহন বন্ধ: ওমান ও জর্ডানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে রিফার (রেফ্রিজারেটেড), বিপজ্জনক এবং বিশেষ কার্গো গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
  • আকাশপথ ও স্থলপথের সীমাবদ্ধতা: মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ আকাশপথ বন্ধ রাখায় এয়ার ফ্রেইট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। স্থলপথে ট্রাক বা রেল যোগাযোগ চালু থাকলেও সীমান্ত জট ও কাস্টমস জটিলতায় পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হতে পারে।
বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮১% আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
মায়েরস্ক-এর  এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে এই খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালী ও সুয়েজ খাল এলাকায় অস্থিরতার কারণে জাহাজগুলো এখন আফ্রিকার ‘কেপ অফ গুড হোপ’ হয়ে ঘুরে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১৪ দিন বেশি সময় লাগছে, যা ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পৌঁছানোর (লিড টাইম) সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
দীর্ঘ পথ অতিক্রম করায় জাহাজের জ্বালানি খরচ ও বিমা প্রিমিয়াম বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে ফ্রেইট চার্জ ১৫% থেকে ২০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা রপ্তানিকারকদের মুনাফার ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।
 চীন বা অন্যান্য দেশ থেকে কাপড়, সুতা ও রাসায়নিক আমদানিতে বিলম্ব হওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। সঠিক সময়ে কাঁচামাল না পাওয়ায় রপ্তানি আদেশ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
 সমুদ্রপথে দেরি হওয়ায় অনেক ক্রেতা আকাশপথে পণ্য পাঠানোর চাপ দিচ্ছেন। এয়ার শিপমেন্টের খরচ সমুদ্রপথের তুলনায় বহুগুণ বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
মায়েরস্ক জানিয়েছে, পূর্ববর্তী কনফার্ম বুকিংগুলো পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পর্যালোচনা করা হবে এবং ট্রানজিটে থাকা কার্গোগুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

বিস্তারিত খবরের জন্য এবং নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।