Home আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি: মিয়ানমারের নির্বাচনকে ‘বৈধতা নয়’

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি: মিয়ানমারের নির্বাচনকে ‘বৈধতা নয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের আয়োজিত তিন ধাপের সাধারণ নির্বাচন গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ শেষ হয়েছে। এই নির্বাচনে জান্তা-সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (USDP) নিরঙ্কুশ বা ভূমিধস জয় পেয়েছে। তবে এই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মহল একটি ‘প্রহসন’ ও ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
নির্বাচনের ফলাফল ও প্রেক্ষাপট
বিজয়: জান্তা-সমর্থিত দল USDP দাবি করেছে যে তারা ইতোমধ্যেই সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। গত ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত আংশিক ফলাফলে দেখা যায়, নিম্নকক্ষে ২৬৩টি আসনের মধ্যে দলটি ২৩২টি আসনে জয়ী হয়েছে।
ভোটের সময়কাল: নির্বাচনটি তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল—প্রথম ধাপ শুরু হয় ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং শেষ ধাপ অনুষ্ঠিত হয় ২৫ জানুয়ারি ২০২৬।
অংশগ্রহণ: মিয়ানমারের ৩৩০টি শহরের মধ্যে মাত্র ২৬৩টিতে ভোট হয়েছে। গৃহযুদ্ধ ও জান্তাবিরোধী প্রতিরোধের কারণে দেশটির এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় জান্তার কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সেখানে ভোট নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘের অবস্থান: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ এই নির্বাচনকে ‘জান্তা-পরিচালিত প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যেখানে হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দি কারাগারে এবং প্রধান বিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে কোনো নির্বাচনই বৈধ হতে পারে না। নির্বাচনের সময় জান্তার বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে জাতিসংঘ।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব: আমেরিকা এই নির্বাচনকে ‘ভুয়া’ (Sham Election) বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই একপেশে নির্বাচন মিয়ানমারে শান্তি ফেরাতে পারবে না, বরং এটি সামরিক শাসনকে স্থায়ী করার একটি অপকৌশল মাত্র।
আসিয়ান (ASEAN): দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর এই জোটও নির্বাচনের বৈধতা দেয়নি। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ ছাড়া এমন নির্বাচন দেশটিতে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে।
কেন একে ‘প্রহসন’ বলা হচ্ছে?
১. বিরোধীশূন্য মাঠ: অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (NLD)-সহ প্রধান বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি এবং অনেক আগেই সেগুলোকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ২. ভোট জালিয়াতি ও হুমকি: সাধারণ মানুষকে জোর করে কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং নতুন ‘নির্বাচন সুরক্ষা আইন’ ব্যবহার করে সমালোচকদের জেল দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। ৩. সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ: নির্বাচনের নামে মূলত জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং নিজের প্রেসিডেন্ট পদ নিশ্চিত করার একটি পথ তৈরি করেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
জান্তা মুখপাত্র জাও মিন তুন জানিয়েছেন, আগামী মার্চে নতুন সংসদ অধিবেশন শুরু হবে এবং এপ্রিল ২০২৬-এ নতুন ‘বেসামরিক’ সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সরকার আসলে সামরিক বাহিনীর একটি ‘সিভিল ড্রেস’ বা ছদ্মবেশ ছাড়া আর কিছুই হবে না।