Home স্বাস্থ্য প্রাকৃতিক মিষ্টি খেজুর: হৃদযন্ত্র থেকে হজম সব দিকেই উপকারী এক ফল

প্রাকৃতিক মিষ্টি খেজুর: হৃদযন্ত্র থেকে হজম সব দিকেই উপকারী এক ফল

হেলথ ডেস্ক:

খেজুরকে বলা হয় প্রকৃতির ক্যান্ডি। ক্যারামেলি স্বাদ আর চিবোতে চিবোতে মজা এই ছোট ফলটি এমনিতেই খেতে সুস্বাদু, আবার স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, মিষ্টির বদলে খেজুর খাওয়াটা হতে পারে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের অংশ। আমাদের দেশে বেশিরভাগ খেজুরই শুকনো অবস্থায় বিক্রি হয়। এর মধ্যে মজদুল  খেজুর আকারে বড়, রসে ভরপুর ও তুলতুলে হওয়ায় দামেও বেশি। তুলনায় ডেগলেট নূর  খেজুর হালকা মধু-ঘ্রাণযুক্ত ও সাশ্রয়ী।

খেজুরের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তার বহুমুখী ব্যবহার। শুধু খেজুর রুটি নয়, এটি কাটা অবস্থায় সালাদেও ব্যবহার করা যায়—যেখানে ঝাঁঝালো রকেট পাতার স্বাদ বা ঝাঁজালো পনিরের স্বাদকে ভারসাম্য এনে দেয় মিষ্টি খেজুর। গরম পানিতে কয়েক মিনিট ভিজিয়ে খেজুর ব্লেন্ড করে তৈরি করা যায় সুস্বাদু মেরিনেড কিংবা ভিনেগারেট। আবার ব্লেন্ড করে খেজুরের পেস্ট ব্যবহার করা হয় চিনি কমানো ব্রাউনি বা কেকেও।

সবচেয়ে সহজভাবে খেজুর চিরে ভেতরের বিচি ফেলে তাতে মাখানো যায় চকলেট, বাদামের মাখন বা নরম পনির। খেজুরের দাম সাধারণ কিশমিশের তুলনায় বেশি হলেও এর প্রাকৃতিক মিষ্টি এমন তীব্র যে অল্পতেই মন ভরে যায়। সংরক্ষণক্ষমতাও অনেকদিন, তাই এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী, পুষ্টিকর ও ঝামেলাবিহীন খাবার।

কেন খেজুর পুষ্টিকর?

৩৪ গ্রাম বা এক মুঠো খেজুরে থাকে:

৯০ ক্যালোরি

২০ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি

২.৬ গ্রাম আঁশ

উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম (২৪৭ মিলিগ্রাম)

লৌহ, তামা, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি৩ সহ নানা খনিজ

কিছুটা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামও রয়েছে

তবে অনেক শুকনো খেজুরে সালফার ডাই-অক্সাইড থাকে, যা অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে—তাই লেবেল দেখে নেওয়া জরুরি।

খেজুরের উপকারিতা

১. হৃদযন্ত্রের যত্নে সহায়ক
খেজুরে রয়েছে প্রচুর আঁশ, যা কোলেস্টেরল কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আঁশ ধীরে হজম হয়, ফলে রক্তে গ্লুকোজ ও ফ্যাটের প্রবেশ ধীরগতির হয় এবং তা রক্তে শর্করা বৃদ্ধির হার কমায়।

২. পরিপাকতন্ত্রে ভালো
আঁশ ও শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড  উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য, যা অন্ত্রে উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখে ও হজমকে উন্নত করে। খেজুরে থাকা পলিফেনলও এই কাজে সহায়ক।

৩. মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টে ভরপুর
পটাশিয়াম, লৌহ, তামা, ম্যাঙ্গানিজ, ক্লোরাইড ও ভিটামিন বি৩—এ সবই রয়েছে খেজুরে। এসব উপাদান রক্ত তৈরি, হজম প্রক্রিয়া ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৪. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণ
খেজুরে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, লাইকোপিন, ফ্ল্যাভোনয়েড, অ্যান্থোসায়ানিনসহ নানা পলিফেনল, যা দেহকোষকে রক্ষা করে এবং হৃদরোগ, ক্যানসার বা স্থূলতা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

৫. গ্লুকোজ শোষণ ধীর করে
খেজুরের প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুক্টোজ) শরীরে ধীরে শোষিত হয়, ফলে হঠাৎ রক্তে চিনি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম। বাদাম বা বাদামের মাখনের সঙ্গে খেলে এই প্রভাব আরও বাড়ে।

সতর্কতা ও পরিমিতি
খেজুর সুস্বাদু হলেও তা চিনি-সমৃদ্ধ এবং আঠালো বলে দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে যদি অতিরিক্ত খাওয়া হয়। তাই একবারে এক মুঠোর বেশি না খাওয়াই ভালো। খাবারের সঙ্গে খেলে বা বাদামের সঙ্গে খেলে এই ক্ষতি কিছুটা কমে।

খাবারে খেজুরের ব্যবহার
বেকিংয়ে অনেকেই ক্যাস্টার সুগারের বদলে খেজুরের সিরাপ বা মধু ব্যবহার করেন। তবে এগুলোও শরীরের জন্য ‘ফ্রি সুগার’ হিসেবেই বিবেচিত। বরং খেজুর ব্লেন্ড করে ঘরে বানানো সিরাপ ব্যবহার করলে আঁশ ও খনিজ বজায় থাকে।