মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ওমানেও। গত ১৩ই মার্চ ওমানের শিল্পনগরী সোহারে ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন অনেকে, যা তাদের কর্মজীবন ও আসন্ন ঈদের আনন্দকেও ম্লান করে দিয়েছে।
ওমানের সোহার শহরের শিল্পাঞ্চলে ড্রোন হামলায় দুই প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশিদের মধ্যে চরম ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী প্রবাসী শফিক হায়দার জানান, তাদের কর্মস্থল থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর পুরো শিল্পাঞ্চলে আগুন ধরে যায়।
তিনি বলেন, “প্রথমে শুনেছিলাম বিমান হামলা হয়েছে। ভয়ে আমরা অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। হামলার দিন ও তার পরের দিনও আমরা কাজে যাইনি। শুধু পেটের দায়ে এখন কাজে বের হচ্ছি, কিন্তু মনের ভেতর সারাক্ষণ ভয় কাজ করে।”
যুদ্ধের প্রভাবে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ওমান থেকে ছুটিতে দেশে আসার পরিকল্পনা করা প্রবাসীরা বিপাকে পড়েছেন। হাসান আহমেদ নামে এক প্রবাসী জানান, চার-পাঁচ মাস আগে থেকেই ঈদের ছুটিতে দেশে যাওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি ফ্লাইট জটিলতায় পড়েছেন। এছাড়া একবার দেশে গেলে পুনরায় ওমানে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “লাখ লাখ টাকা খরচ করে ওমান এসেছি। দেশে গিয়ে যদি আটকা পড়ি, তবে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।”
মাস্কাট ও সুর শহরের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল হলেও মানুষের মনে স্বস্তি নেই। ড্রোন হামলার পর থেকে স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রবাসীরাও প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। নূরউদ্দিন নামে এক প্রবাসী জানান, “শহর এখন অনেকটাই ফাঁকা। ড্রোন হামলার পর থেকে মানুষ বের হওয়া কমিয়ে দিয়েছে। আমরা বাধ্য হয়ে কাজে বের হলেও পরিস্থিতি এমন যে, ঈদের নামাজ পড়তে যেতে পারব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। রীতিমতো দম বন্ধ করা পরিস্থিতি।”
যুদ্ধের প্রভাব কেবল নিরাপত্তার ওপর নয়, বরং প্রবাসীদের আয়ের ওপরও পড়েছে। অনেক প্রবাসী অভিযোগ করেছেন, যে বেতনের কথা বলে তাদের ওমান নেওয়া হয়েছিল, বর্তমানে তার চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম বেতন পাচ্ছেন তারা। এছাড়া নতুন করে ভিসা যাচাই-বাছাই কঠোর হওয়ায় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও ধীরগতিতে কাজ করছে, যার ফলে ওমানে নতুন কর্মী আসার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ সংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওমানের আইন অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া ছুটিতে দেশে আসা কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে নিয়োগকর্তা বা কফিলের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।