বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: চলতি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। মাসের প্রথম আট দিনে দেশে এসেছে ১০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বর শেষে প্রবাসী আয় ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছুঁতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি নতুন অর্থবছরের শুরুতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বাজারে এই উদ্বৃত্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্রয় করেছে। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে প্রতি ডলারের মূল্য ছিল ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা। এ বছরের জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয় দাঁড়িয়েছে ২,৫১৪ মিলিয়ন বা আড়াই বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর দেশে এসেছে ১০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে শুধু ৮ ডিসেম্বরই এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা থেকে দেখা যায় প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধি ২১ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন ১,৪০৪ কোটি ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১,১৯৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির হার ১৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগ, প্রণোদনা সুবিধা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ইতিবাচক প্রভাবিত হচ্ছে।
সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, যা টাকায় প্রায় ৩৫,২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং নতুন অর্থবছরের শুরুতে বিনিয়োগ ও আমদানি-বান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে।










