শেয়ারবাজার স্ক্যানার: লাফার্জহোলসিম
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা:
দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত সিমেন্ট কারখানা লাফার্জহোলসিম। নিজস্ব খনি থেকে কাঁচামাল (চুনাপাথর) সংগ্রহের সুবিধা থাকায় অন্যান্য সিমেন্ট কোম্পানির তুলনায় এদের ব্যবসার ধরন কিছুটা ভিন্ন এবং শক্তিশালী।
১. লাভ-লোকসানের চিত্র (Net Profit)
বিগত কয়েক বছরে লাফার্জহোলসিম তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা ও খরচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মুনাফায় ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।
বিশ্লেষণ: কাঁচামালের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কম হওয়ায় ডলারের দাম বাড়লেও এদের মুনাফায় খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, যা এই সেক্টরের অন্য কোম্পানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
২. বাজার মূল্য ও শেয়ার পারফরম্যান্স (Market Info)
বর্তমান দর: ২০২৬ সালের মার্চ অনুযায়ী, শেয়ার দর ৬৫.০০ – ৭২.০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।
মার্কেট ক্যাপ: বর্তমানে এর বাজার মূলধন প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকার উপরে।
ক্যাটাগরি: নিয়মিত উচ্চ লভ্যাংশ এবং শক্তিশালী মৌলভিত্তির কারণে এটি একটি শীর্ষস্থানীয় ‘A’ ক্যাটাগরি কোম্পানি।
৩. ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক সক্ষমতা (Financial Standing)
লাফার্জহোলসিম তাদের ঋণের বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল।
ঋণ হ্রাস: গত কয়েক বছরে কোম্পানিটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী ঋণের বড় অংশ পরিশোধ করে দিয়েছে। বর্তমানে এটি একটি ‘Low Debt’ বা স্বল্প ঋণের কোম্পানি হিসেবে পরিচিত।
ক্যাশ ফ্লো: তাদের নিজস্ব ব্যবসার নগদ প্রবাহ (Cash Flow) এতটাই শক্তিশালী যে, তারা নতুন কোনো বড় প্রজেক্ট বা বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকের ওপর খুব একটা নির্ভরশীল নয়।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবসা (Geocycle): সিমেন্ট ছাড়াও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তারা অতিরিক্ত আয়ের একটি টেকসই পথ তৈরি করেছে।
৪. অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ঝুঁকি (Outlook & Risks)
ইতিবাচক দিক:
নিজস্ব খনি: মেঘালয় থেকে নিজস্ব বেল্ট কনভেয়ারের মাধ্যমে চুনাপাথর আসায় উৎপাদন খরচ অনেক কম।
রপ্তানি: তারা নিয়মিত ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোতে সিমেন্ট ও ক্লিংকার রপ্তানি করছে।
ডিজিটাল রিটেইল: তাদের অনলাইন ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক দেশের মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক।
ঝুঁকি:
আদালতের রায়: গ্যাস বিল বা চুনাপাথরের শুল্ক নিয়ে মাঝেমধ্যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়, যা মুনাফায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে।
জ্বালানি খরচ: কয়লা ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে সিমেন্টের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।










