বিনোদন ডেস্ক: আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিখ্যাত বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (বার্লিনালে) ‘প্যানোরামা’ বিভাগে প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে ‘লালি’। এটিই প্রথম সম্পূর্ণ পাকিস্তানি চলচ্চিত্র যা এই উৎসবে প্রদর্শিত হবে। ভালোবাসা দিবসে এর মুক্তি যেন একটি বিশেষ বার্তা—যেখানে দাম্পত্য প্রেম কোনো রূপকথার গল্প নয়, বরং এক জটিল বাস্তব।
গল্পের প্রেক্ষাপট ও রহস্য
ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে জেবা (মামিয়া শজাফর) এবং তার স্বামী সাজাওয়ালকে কেন্দ্র করে। জেবাকে নিয়ে এলাকায় কুসংস্কার ও কানাঘুষা প্রচলিত যে সে একজন ‘অভিশপ্ত কনে’, কারণ তার আগের তিন হবু বর রহস্যজনকভাবে মারা গেছে। অন্যদিকে, সাজাওয়াল একজন হীনম্মন্যতায় ভোগা পুরুষ, যার সন্দেহ ধীরে ধীরে উন্মাদনায় রূপ নেয়।
ট্রেলারটি দর্শকদের মনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উসকে দেয়:
জেবা কি সত্যিই অপশক্তির কবলে?
নাকি কালো জাদু কাজ করছে পেছনে?
নাকি বদ্ধ ঘরের আড়ালে অন্য কোনো ভয়ানক ও নির্মম সত্য লুকিয়ে আছে?
নির্মাণ ও শৈল্পিক দিক
সাহিবালের বস্তি এলাকায় চিত্রায়িত এই চলচ্চিত্রটি অনেকটা ‘জাগরণী স্বপ্নের’ (fever dream) মতো। পরিচালক সারমদ খুসাত, যিনি এর আগে ‘জয়ল্যান্ড’ এবং ‘জিন্দেগি তমাশা’র মতো প্রশংসিত সিনেমা উপহার দিয়েছেন, এখানেও তার নিজস্ব নির্মাণশৈলী বজায় রেখেছেন।
চিত্রগ্রহণ: খিজর ইদ্রিস (মনোরম ও গাম্ভীর্যপূর্ণ দৃশ্য)।
সম্পাদনা: সাইম সাদিক (আবেগের সঠিক ছন্দ বজায় রাখতে পারদর্শী)।
‘লালি’ কেবল কুসংস্কার বা জিনের গল্পের সিনেমা নয়; বরং এটি সম্পর্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা ভয়, লজ্জা এবং সহিংসতার এক নিবিড় ব্যবচ্ছেদ। ট্রেলারটি পুরো গল্পটি ফাঁস না করে কেবল একটি থমথমে আবহ তৈরি করেছে, যা বর্তমান সময়ের গতানুগতিক ট্রেলার থেকে আলাদা।