Home নির্বাচন হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া মানেই ফ্যাসিবাদকে সমর্থন: ডা. শফিকুর রহমান

হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া মানেই ফ্যাসিবাদকে সমর্থন: ডা. শফিকুর রহমান

শফিকুর রহমান
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি,কক্সবাজার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা বর্তমান পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের মুখের কথাই যেন বুকের কথা হয়। যারা ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেবেন, ১৮ কোটি মানুষ ধরে নেবে তারা দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ ও পরিবারকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন কায়েম করতে চান।
সোমবার দুপুরে কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজয় হবে ১৮ কোটি মানুষের
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জামায়াতে ইসলামীর একক বিজয় চাই না; আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। কোনো নির্দিষ্ট দল, পরিবার বা গোষ্ঠীর বিজয় হলে জাতির ওপর তাণ্ডব চালানো হয়। আমরা তেমন বিজয়কে ধিক্কার জানাই।”
বেকার ভাতা নয়, সম্মানজনক কর্মসংস্থান
যুবসমাজের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুবকরা বেকার ভাতা চায় না, তারা কাজ চায়। মহেশখালী-কুতুবদিয়া অঞ্চলকে ঘিরে বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চল সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়েও উন্নত স্থানে পরিণত হতে পারে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গেলে মহেশখালীকে একটি ‘স্মার্ট ইকোনমিক জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
পাচারকৃত ২৮ লাখ কোটি টাকা ফেরানোর অঙ্গীকার
বিদেশে অর্থ পাচারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা দেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। চোর-ডাকাতরা জনগণের যে টাকা লুট করেছে, তা লুণ্ঠনকারীদের পেট থেকে বের করে আনা হবে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।”
সৎ নেতৃত্বের আহ্বান
আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চরিত্রবান ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও ব্যাংক ডাকাতদের দিয়ে যুবকদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। যারা মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকে, তাদের দিয়েই বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়া হবে।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ: নির্বাচনী এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। এছাড়া ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্তর্ভুক্ত দলসমূহ—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, এবি পার্টি, এলডিপি এবং জাগপাসহ অন্যান্য শরিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।