আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনা এবং সামরিক সংঘাতের পর অবশেষে শান্তির সুড়ঙ্গপথে আলো দেখা যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি স্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা এখন জোরালো হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি এক পাতার সমঝোতা স্মারক (MOU) পর্যালোচনা করছে, যা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
১৪ দফার প্রস্তাব: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে ১৪ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। বর্তমানে তেহরান এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থ মুক্তি: চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ওয়াশিংটন।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দর-কষাকষি: পরমাণু কর্মসূচির সীমা নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের সময়সীমা দাবি করলেও ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছিল। বর্তমানে এটি ১২ থেকে ১৫ বছরের একটি মধ্যবর্তী সময়ে স্থির হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ: যুদ্ধের কারণে অচল হয়ে পড়া বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সকল আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করতে উভয় পক্ষই নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন ড্রোন ও ইরানি লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও দুই দেশই একে ‘অস্থায়ী উত্তেজনা’ হিসেবে দেখছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দুই দেশের মধ্যে দিনরাত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এবং খুব দ্রুতই একটি ইতিবাচক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
শান্তি আলোচনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরা এই সম্ভাব্য চুক্তিকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তবে ইসরায়েলের মতো পক্ষগুলো এখনও এই চুক্তির বিষয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।
businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং আপনার মন্তব্য নিচে শেয়ার করুন।










