Home আন্তর্জাতিক পঁচানব্বইয়ের ‘কনে’ আর সাতষট্টির ‘বর’

পঁচানব্বইয়ের ‘কনে’ আর সাতষট্টির ‘বর’

তিন মাসের প্রেমেই বাজলো বিয়ের সানাই!

আনোয়ার আহমেদ, কুয়ালালামপুর: নাটক বা সিনেমাকেও হার মানালো বাস্তব জীবনের এই প্রেমকাহিনি। পাত্রীর বয়স ৯১ বছর, আর পাত্র তাঁর থেকে ২৪ বছরের ছোট—৬৭ বছর। মাত্র তিন মাসের পরিচয়, আর তাতেই একেবারে ছাদনাতলায়! গত মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার ‘সিলভার জুবিলি হোম ফর দি এজড’ বৃদ্ধাশ্রমে ধুমধাম করে বিয়ে সারলেন হু রুইরং (৯১) এবং উ কাইক্সিং (৬৭)।
বিয়ের প্রস্তাব দিলেন খোদ কনে!
সাধারণত পুরুষরাই হাঁটু গেড়ে প্রস্তাব দেন, কিন্তু এখানে গল্পটা একটু উল্টো। ৯১ বছর বয়সী হু রুইরং নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দেন উ-কে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান: “আমি ওর সাথে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলাম, তাই বিয়ের কথা বলি। এখন আমি খুব সুখী!”
মজার ব্যাপার হলো, এটি হু-র জীবনের প্রথম বিয়ে। যৌবনে বাবা-মায়ের সেবা করতে গিয়ে নিজের কথা ভাবার সময় পাননি তিনি। সাত বছর আগে শরীর সায় না দেওয়ায় এই বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হয় তাঁর। অন্যদিকে, উ কাইক্সিং এই আশ্রমে আসেন গত বছরের শেষের দিকে।
যেভাবে শুরু এই প্রেম
প্রথম দেখা: বৃদ্ধাশ্রমের ডাইনিং রুমে। পাশাপাশি বসে খেতে খেতেই আলাপ।
ডেট: দুজনের ডেটিং মানেই ছিল হাতে হাত রেখে বৃদ্ধাশ্রমের বাইরে হাঁটা কিংবা টুকটাক কেনাকাটা।
রোমান্স: মাত্র তিন মাসেই এমন গভীর টান তৈরি হয় যে তাঁরা বাকি জীবনটা একসাথে কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
আশ্রম কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি নিয়ে একটু অবাক হলেও পরে দুজনকে আলাদাভাবে ইন্টারভিউ নেন। নিশ্চিত হন যে কেউ কাউকে জোর করেনি। এরপরই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর সাহায্যে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন করা হয়। এমনকি তাঁদের বিয়ের বেস্ট ম্যান আর ব্রাইডসমেড ছিলেন সত্তরোর্ধ্ব অন্য এক দম্পতি, যাঁরা নিজেরাই ওই আশ্রমে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন!

বিয়ের পর এখন থেকে একসাথেই এক ঘরে থাকছেন নবদম্পতি। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, জীবন সায়াহ্নে এসেও একাকীত্ব ঘুচিয়ে নতুন করে বাঁচা যায়। হু এবং উ-র জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা!