Home সারাদেশ শোকের স্তব্ধতা: ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে না ফেরার দেশে বাবাও

শোকের স্তব্ধতা: ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে না ফেরার দেশে বাবাও

ছবি সংগৃহীত

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: সন্তানের মরদেহ কাঁধে নেওয়া বাবার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা। কিন্তু সেই শোক যখন সইবার শক্তিও অবশিষ্ট থাকে না, তখন মৃত্যু যেন হয়ে ওঠে এক করুণ আর্তনাদ। লন্ডনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছেলে নাফিজুল হক শাকিলের মৃত্যুর সংবাদ শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বাবা ফজলুল হক (৬০)।

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার এই শোকাবহ ঘটনাটি এখন পুরো জনপদে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
শোকের শুরু যেখান থেকে: গত ১৪ জানুয়ারি লন্ডনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান নাফিজুল হক শাকিল। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১৯ জানুয়ারি পূর্ব লন্ডনের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। যখন এই খবর সিলেটে অবস্থানরত বাবা ফজলুল হকের কানে পৌঁছায়, তখনই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত ফজলুল হক ছেলের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর আবারও গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দ্রুত তাকে সিলেট নগরের জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
পরিবারের আর্তনাদ: শনিবার রাতে ফজলুল হকের ছোট ছেলে মো. কামরান মুঠোফোনে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:

“আব্বা আর নাই। বড় ভাইয়ের শোক সইতে পারলেন না তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।”

নিহত ফজলুল হক ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক ছিলেন। বড় ছেলের লাশের অপেক্ষায় থাকা এই বাবা শেষ পর্যন্ত নিজেই পাড়ি জমালেন পরপারে। বাবার চোখে শেষবার ছেলেকে দেখার যে আকুলতা ছিল, তা অপূর্ণই থেকে গেল।
লন্ডনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া শাকিলের মরদেহ এখনো রয়েল লন্ডন হসপিটালের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাবা ও ছেলের এমন পরপর মৃত্যুর সংবাদে কানাইঘাটসহ পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শোকসন্তপ্ত এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে লন্ডনের ‘বেথনালগ্রীণ রাইডার গ্রুপ’ সহ বিভিন্ন সংগঠন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
একদিকে দূর প্রবাসে পড়ে থাকা সন্তানের নিথর দেহ, অন্যদিকে প্রিয় সন্তানের শোকে বাবার বিদায়—এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি আবারো প্রমাণ করল, সন্তানের প্রতি বাবার বাৎসল্য কতটা গভীর হতে পারে। যেখানে শোকের কাছে হার মেনেছে খোদ জীবন।