বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা
‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন’
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আসন্ন নির্বাচন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এই ধরনের মন্তব্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতির মূল পয়েন্টগুলো:
শিষ্টাচার লঙ্ঘন: মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান সংসদ সদস্য হয়ে অন্য একটি স্বাধীন দেশের নির্বাচন ও রাজনৈতিক দল সম্পর্কে মন্তব্য করা পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থী।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য: শ্রিংলার মন্তব্যকে ‘তথ্যবিকৃত’ ও ‘রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, জনগণ কাকে ভোট দেবে তা নির্ধারণের এখতিয়ার শুধুমাত্র বাংলাদেশের মানুষের।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আঘাত: বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, এই ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করছে।
জনগণের ম্যান্ডেট: জামায়াত নেতা স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত ও গণতান্ত্রিক দল। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণই তাদের প্রকৃত রায় দেবে এবং সেখানে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা মন্তব্য করেছিলেন যে, বাংলাদেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জামায়াতের জেতার সম্ভাবনা নেই। তিনি দলটির ভোট ব্যাংক ৫-৭ শতাংশ উল্লেখ করে দাবি করেন, নির্বাচন কারচুপি হলেই কেবল তারা ক্ষমতায় আসতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ভারতের দায়িত্বশীল মহলকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার এবং কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।