বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, রামগড়: পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদে (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান) দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বাঙালি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান পদে বাঙালির অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে রাজপথে ‘দুর্বার আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
সোমবার এক বিবৃতিতে জোটের খাগড়াছড়ি জেলা প্রধান সমন্বয়ক মোঃ নিজাম উদ্দিন এই চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
বঞ্চনার ৫৪ বছর ও সাংবিধানিক অধিকার
বিবৃতিতে মোঃ নিজাম উদ্দিন বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠী আজও জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভাইস-চেয়ারম্যান পদ থেকে বঞ্চিত। ক্ষমতার কাঠামোকে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। এই বৈষম্যের রাজনীতি আর মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে বাঙালির প্রতিনিধিত্ব কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার। সংবিধান যেখানে সকল নাগরিকের সমতা ও অংশগ্রহণের কথা বলে, সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত সেই সংবিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে।
মূল দাবি ও আন্দোলনের রূপরেখা
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়:
প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ: তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী কাঠামোতে বাঙালির দৃশ্যমান অংশগ্রহণ থাকতে হবে।
একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান: কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে পার্বত্য অঞ্চলকে ব্যবহার করা চলবে না।
গণআন্দোলনের হুমকি: নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই দাবি পূরণ না হলে সমাবেশ, মানববন্ধন ও রাজপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
“বৈষম্যের শান্তি চাই না”
মোঃ নিজাম উদ্দিন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা শান্তি চাই, কিন্তু বৈষম্যের শান্তি নয়। সম্প্রীতির নামে অধিকার হরণ করে বাঙালিদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করার স্বপ্ন আর সফল হতে দেওয়া হবে না। যারা নির্বাচনের আগে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে বাঙালিদের অগ্রাহ্য করে, তাদের জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে।”
বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষার এই লড়াইয়ে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। জোটের নেতৃবৃন্দ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বেন না।