মুফতি আবুল হাসান, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কাসেমি ও মামুনুর রশীদ। ছবি সংগৃহীত
ভোটের উত্তাপে কাঁপছে সীমান্ত জনপদ
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেটের উত্তর-পূর্ব সীমান্তঘেরা আসন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) এখন নির্বাচনী জ্বরে আক্রান্ত। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পাহাড় আর হাওরবেষ্টিত এই জনপদে বইছে উৎসবের আমেজ। তবে এবারের ভোটের অংকটা বেশ জটিল। একদিকে দুই হেভিওয়েট আলেম প্রার্থী, অন্যদিকে দলছুট প্রভাবশালী নেতার ‘ফুটবল’ প্রতীক—সব মিলিয়ে লড়াই এখন ত্রিমুখী।
জোটের মারপ্যাঁচে ‘খেজুরগাছ’ বনাম ‘দেওয়াল ঘড়ি’
সিলেটের এই আসনটি বরাবরই আলেম-উলামাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হয়ে ‘খেজুরগাছ’ প্রতীকে মাঠে নেমেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। অন্যদিকে, জামায়াত সমমনা জোটের প্রার্থী হয়ে ‘দেওয়াল ঘড়ি’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি মাওলানা আবুল হাসান।
যদিও শুরুতে জামায়াত নেতা হাফিজ আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে গুঞ্জন ছিল, কিন্তু জোটের সমীকরণে শেষ পর্যন্ত টিকিট পেয়েছেন মুফতি আবুল হাসান। জনপ্রিয় এই ওয়াজিনের ব্যক্তিগত পরিচিতিই এখন খেলাফত মজলিসের বড় পুঁজি।
ফ্যাক্টর যখন ‘চাকসু মামুন’ ও ফুটবল
এবারের নির্বাচনে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন)। দলীয় প্রতীক না পেলেও ‘ফুটবল’ নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি আলোচনার তুঙ্গে। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে মাঠে নেমেছে, যা সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে জোটের প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুকের ওপর। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে মামুনের ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক এবারের নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মাঠের চিত্র ও ভোটারদের ভাবনা
মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে, লড়াইটা হবে মূলত প্রতীক বনাম ব্যক্তির।
খেজুরগাছ: বিএনপির ভোট ও জমিয়তের নিজস্ব আধারের ওপর ভরসা করছে।
দেওয়াল ঘড়ি: জামায়াত-শিবিরের সমর্থন ও মুফতি আবুল হাসানের বক্তা হিসেবে জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চায়।
ফুটবল: বিদ্রোহী ভোটার ও সাধারণ মানুষের আবেগ পুঁজি করে এগোচ্ছেন মামুনুর রশিদ।
হারিকেন: এছাড়াও মুসলিম লীগের মাওলানা বিলাল উদ্দিন হারিকেন প্রতীক নিয়ে নীরবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
শেষ হাসি কার?
কানাইঘাট-জকিগঞ্জের ভোটাররা বলছেন, দুই আলেমের লড়াইয়ে যদি সাধারণ ভোট ভাগ হয়ে যায়, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য জেতা সহজ হতে পারে। আবার জোটের ভোট যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে জয়ী হবেন কোনো এক আলেম প্রার্থীই। সীমান্ত অঞ্চলের এই ভোটের লড়াই এখন কেবল স্থানীয় নয়, সারা দেশের রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।