বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের অস্থিরতা কাটিয়ে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত কয়েকদিনের দরপতনের ধাক্কা সামলে আজ শনিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে সোনার দাম ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে ৪,৮৮১ ডলারে নেমে এসেছিল। তবে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির নতুন তথ্য এবং ডলারের বিনিময় হার কিছুটা শিথিল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আবারও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন। আজ স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১.২০ শতাংশ বেড়ে ৫,০৪৩.১১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে সোনা তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড ৫,৬০৮ ডলারে পৌঁছেছিল। সেই রেকর্ড উচ্চতা থেকে দাম কিছুটা কমলেও বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদী দরবৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কেন এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা? বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, তিনটি প্রধান কারণে সোনার দাম বাড়ছে:
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সোনা মজুত বাড়াচ্ছে।
সুদের হার: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে সরে এসে সোনায় বিনিয়োগ করছেন।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে।
জেপি মর্গান এবং গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্বাভাস দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬২.১৪ ডলারে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুব দ্রুত স্থানীয় বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নতুন সব আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।