আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরবে ঈদুল ফিতর এক অনন্য ধর্মীয় ও সামাজিক আবহে উদযাপিত হয়। দেশটির প্রতিটি প্রান্ত এই সময় উৎসবের রঙে সেজে ওঠে। সৌদি আরবে ঈদের দিনটি শুরু হয় খুব ভোরে। ফজরের নামাজের পর মানুষ দ্রুত গোসল সেরে নতুন পোশাক পরে নিকটস্থ ঈদগাহ বা বড় মসজিদে সমবেত হন।
ঈদের বিশেষ জামাতে অংশ নেওয়া সেখানে প্রতিটি পরিবারের অন্যতম প্রধান রীতি। বিশেষ করে পবিত্র মক্কা ও মদিনার দুই হারামে লাখ লাখ মানুষের সমাগম এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। নামাজ শেষে শুরু হয় সামাজিক কুশল বিনিময়।
সৌদি আরবে ‘আইয়াদি’ বা বড়দের পক্ষ থেকে ছোটদের নগদ অর্থ উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি অত্যন্ত জনপ্রিয়। শিশুরা নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে পাড়া-প্রতিবেশী এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে। বড়রাও একে অপরের বাড়িতে গিয়ে কফি, খেজুর এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করেন।
সৌদি আরবের ঈদের খাবারের তালিকায় বিশেষ কিছু আইটেম থাকে। এর মধ্যে ‘মুফাতাহ’ (এক প্রকার ভেড়ার মাংসের বিরিয়ানি), ‘কাবসা’ এবং বিভিন্ন ধরনের আরব্য মিষ্টি যেমন ‘মামুল’ বা ‘বাকালাওয়া’ অন্যতম। অনেক অঞ্চলে ঈদের সকালে বড় বড় ডেকচিতে করে খোলা জায়গায় খাবার পরিবেশন করা হয়, যেখানে পথচারী ও অভাবী মানুষ নির্বিশেষে অংশ নিতে পারেন। বিকেলের দিকে দেশটির বিভিন্ন শহরে সরকারি উদ্যোগে নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রিয়াদ, জেদ্দা এবং দাম্মামের মতো বড় শহরগুলোতে বর্ণিল আতশবাজি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন পার্কে লোকজ সংগীত এবং আরব্য লোকনৃত্য ‘আরদাহ’ পরিবেশন করা হয়। সৌদি আরবের প্রতিটি প্রদেশেই নিজস্ব কিছু ঐতিহ্যবাহী আচার থাকলেও ভ্রাতৃত্ব এবং আতিথেয়তার মূল সুরটি সবখানেই অভিন্ন থাকে। দেশটির সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজপরিবার পর্যন্ত সবাই এই দিনে সাধারণ মানুষের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। ঈদের আনন্দ সাধারণত তিন দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং এই সময়ে পুরো দেশটি এক উৎসবের আমেজে ডুবে থাকে।










