বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ট্রানজিট রুটের ১০০টি ফ্লাইটের সূচি ওলটপালট হয়ে গেছে। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন অন্তত ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী। এসব ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ৪১টি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার পর থেকেই দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আরোপিত পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে ঢাকা থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ফ্লাইটগুলো যাত্রা বাতিল কিংবা স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্লাইট সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশীয় দুটি এয়ারলাইনস। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ৪১টি বিঘ্নিত ফ্লাইটের তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়ার ৭টি ও রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া ইন্ডিগো, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইসহ বিভিন্ন সংস্থার ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট বিপাকে পড়েছে।
এদিকে ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ার খবরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করেছেন শত শত সৌদিগামী যাত্রী। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে।
যাত্রী ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “গ্রামের জমি বন্ধক রেখে অনেক কষ্টে চার লাখ টাকা জোগাড় করে সৌদি আরবের একটি সাপ্লাই কোম্পানিতে ভিসার কাজ শেষ করেছিলাম। আজ আমার ফ্লাইট ছিল। বিমানবন্দরে এসে শুনছি ফ্লাইট বাতিল। এয়ারলাইনসের লোকজন বলছে ১৭ তারিখের পর জানাতে পারবে। এদিকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে সৌদি আরবে কাজের জায়গায় রিপোর্ট করতে না পারলে আমার ভিসাটাই বাতিল হয়ে যাবে। এখন কার কাছে যাব, কী করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।”
কুমিল্লার আরেক যাত্রী পারভেজ আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের না জানিয়ে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট স্থগিত করা হলো। গত রাত থেকে না খেয়ে টার্মিনালে বসে আছি। কোনো এয়ারলাইনস আমাদের থাকা বা খাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। টিকিট রি-ইস্যু করতে গেলে বলা হচ্ছে কাউন্টারে ভিড় না করতে।”
অপরদিকে একই ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরবে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও। জরুরি কাজে কিংবা নির্ধারিত ছুটিতে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অনেকেই বিমানবন্দরে গিয়ে ফ্লাইট বাতিলের খবর পাচ্ছেন।
রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ মুঠোফোনে জানান, “এক বছর পর এক মাসের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার জন্য টিকিট কেটেছিলাম। বয়োবৃদ্ধ মা অসুস্থ, তাঁকে দেখতে জরুরি যাওয়া দরকার। বিমানবন্দরে এসে শুনি ঢাকা থেকে ফ্লাইট আসছে না, এখান থেকেও ঢাকা যাওয়ার ফ্লাইট বন্ধ। ছুটি তো নির্দিষ্ট দিনের, বিমানবন্দর থেকে যদি তিন-চার দিনই কেটে যায়, তবে পরিবারকে সময় দেব কখন? কর্তৃপক্ষ শুধু বলছে অপেক্ষা করতে, কিন্তু কতক্ষণ অপেক্ষা করব তা কেউ নির্দিষ্ট করে বলছে না।”
দাম্মামে কর্মরত আরেক রেমিট্যান্স যোদ্ধা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমার আকামার মেয়াদ শেষের দিকে, কোম্পানির ফাইনাল এক্সিট ভিসা নিয়ে দেশে ফেরার জন্য বিমানবন্দরে এসেছিলাম। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এখন চরম বিপদে পড়েছি। এয়ারপোর্টে আটকে থাকায় থাকার জায়গা নেই, সাথে থাকা রিয়ালও শেষ হয়ে আসছে। যদি দ্রুত কোনো বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা না করা হয়, তবে আমাদের পথে বসতে হবে।”
সংকট পুরোপুরি না কাটা পর্যন্ত সৌদি আরবগামী এবং দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা সব যাত্রীকে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বেবিচক।
নিয়মিত সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট পেতে businesstoday24.com অনুসরণ করুন এবং আপনার মতামত কমেন্টে জানান।










