Home রেমিটেন্স যোদ্ধাদের খবর কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে আজ গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটির সদস্য, বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দিনের কর্মসূচির শুরু হয় সকালে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে  হাইকমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পতাকা উত্তোলন শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। এছাড়া স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার কর্তৃক নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষে দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন-

  • ইঞ্জিনিয়ার মো. বদলুর রহমান খান
  • পেশাজীবী বেদৌরা নাজনীন ও মাহবুব আলম শাহ
  • রেমিট্যান্স যোদ্ধা রবিন
  • সাংবাদিক মো. আমিনুল ইসলাম রতন

বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারা নতুন নির্বাচিত সরকারের অধীনে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন: “আমাদের মহান স্বাধীনতার পেছনে বীর শহীদদের যে আত্মত্যাগ, তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের এই বিসর্জন আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের অনবদ্য ভূমিকার কথা স্মরণ করেন এবং গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে তাদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। হাইকমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দেশাত্মবোধক গান ও স্বাধীনতা নিয়ে রচিত কবিতা আবৃত্তি করা হয়। এই পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার গুরুত্ব, দেশপ্রেম এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ফুটিয়ে তোলা হয়।

পরিশেষে, মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশপ্রেম ও ঐক্যের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করার নতুন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।