বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার আনসারের এক দলনেতা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ৩৩০ জনকে নির্বাচনী দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি এবং রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় অনিয়ম ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও ১৫ জনকে অব্যাহতি দিয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।
হাতিরঝিলের সেই ‘নিয়োগ বাণিজ্য’
তদন্তে দেখা গেছে, হাতিরঝিল থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের টিডিপি দলনেতা মামুন টাকার বিনিময়ে বিশাল এই জালিয়াতি করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো হলো:
ভুয়া সনদ: জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে প্রশিক্ষণবিহীন ব্যক্তিদের ভুয়া সনদ তৈরি করে দেন।
ঘুষ গ্রহণ: ডিউটি দেওয়ার নাম করে পরবর্তীতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১,১০০ টাকা করে উৎকোচ নেন।
অব্যাহতি: অনিয়ম ধরা পড়ার পর ওই ৩৩০ জনকেই তাৎক্ষণিক নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পলাতক অভিযুক্ত: মূল হোতা মামুন বর্তমানে পলাতক। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
চট্টগ্রাম ও গুলশানেও অব্যাহতির হিড়িক
শুধু হাতিরঝিল নয়, দেশের অন্য প্রান্তেও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাহিনীটি:
চট্টগ্রাম: কোতোয়ালি থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন সদস্য ‘প্রশিক্ষণবিহীন’ হওয়া সত্ত্বেও ডিউটি পাওয়ায় তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে গুলশানের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী শাহনাজ সুলতানা এবং ভাটারা ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী সামসুন্নাহারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বাহিনীর কড়া হুঁশিয়ারি
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচনী মাঠে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি বৈধ সনদ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো অযোগ্য বা ভুয়া সনদধারীর মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে মোট সাড়ে ৯ লাখ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ সাড়ে ৫ লাখই আনসার সদস্য।