বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এলপিজি খাতের বর্তমান খণ্ডিত ও ব্যয়বহুল নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এলপিজি খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসনে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেন।
ড. তামিম তার প্রবন্ধে বর্তমান ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, একটি বেসরকারি খাত পরিচালিত শিল্পে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতায় তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তব্যের প্রধান আকর্ষণ: লাইসেন্সিং ও আর্থিক সংস্কার
ড. ম. তামিম বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন যে, “লাইসেন্সের মেয়াদ বর্তমানে ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫-১০ বছর করা উচিত, যা অপারেটরদের অপারেশনাল ঝুঁকি কমাবে।” তার মতে, প্রতি বছর নবায়নের বাড়তি চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসার গতি কমিয়ে দেয়।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “যদি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সহজ করা না হয় তবে কমপ্লায়েন্স খরচ বাড়তেই থাকবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর বাড়তি দামের বোঝা হয়ে চাপবে।” বর্তমানে একজন অপারেটরকে ১০টিরও বেশি সংস্থা থেকে ২৬টির বেশি লাইসেন্স নিতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক উদাহরণ
বক্তব্যে তিনি দক্ষিণ এশীয় ও অন্যান্য সফল দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, “ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামে ৫ থেকে ১৫ বছরের জন্য একক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে।”
ভারত ও তুরস্ক: একক জ্বালানি নিয়ন্ত্রক ও ডিজিটাল লাইসেন্সিং ব্যবস্থা অনুসরণ করে।
ভিয়েতনাম: ১০ বছর মেয়াদী সনদ ও কেন্দ্রীয় লাইসেন্সিং পদ্ধতি চালু করেছে।
পাকিস্তান: একক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ওগরা’ (OGRA) এর মাধ্যমে ১৫ বছর মেয়াদী লাইসেন্স প্রদান করে।
অপ্রাসঙ্গিক ল্যাবরেটরি ও পরিবেশগত মানদণ্ড
ড. তামিম উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি প্ল্যান্টে নিজস্ব ল্যাব স্থাপনের বাধ্যতামূলক নিয়মটি অপ্রয়োজনীয়। এর বদলে তিনি বুয়েট বা কুয়েটের মতো স্বীকৃত ল্যাব ব্যবহারের প্রস্তাব দেন, যা প্রতিটি প্ল্যান্টের ১.৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে। এছাড়া এলপিজি একটি বদ্ধ সঞ্চালন ব্যবস্থা হওয়ায় একে ‘সবুজ’ (Green) শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
বক্তব্যের পরিশেষে তিনি একটি শক্তিশালী বার্তা দেন: “নিয়ন্ত্রক সংস্কার মানে নিয়ন্ত্রণহীনতা নয়, বরং এটি টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি ‘স্মার্ট রেগুলেশন’।” তিনি ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল লাইসেন্সিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পরামর্শ দেন, যা সশরীরে পরিদর্শন ৭০-৮০% কমিয়ে আনবে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
অধ্যাপক তামিমের মতে, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।










