আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেদারল্যান্ডসে ‘পাশ্চাত্য আচরণ’ এবং প্রেম করার অপরাধে ১৮ বছর বয়সী বোনকে হত্যার দায়ে দুই সিরিয়ান ভাইয়ের বিচার শুরু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত তাদের বাবা বর্তমানে সিরিয়ায় পলাতক রয়েছেন। ডাচ প্রসিকিউশন সার্ভিস এই ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অনার কিলিং’ বা ‘সম্মান রক্ষার্থে হত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ঘটনার বিবরণ
নিহত কিশোরীর নাম রায়ান আল নাজ্জার (১৮)। অভিযোগ রয়েছে, তার দুই ভাই মোহাম্মদ আল নাজ্জার (২৩) এবং মুহান্নাদ (২৫) তাকে হাত-পা বেঁধে মুখে গ্যাগ লাগিয়ে একটি জলাশয়ে ফেলে হত্যা করে। তাদের দাবি, রায়ানের ছেলেবন্ধু থাকা এবং তার পাশ্চাত্য জীবনযাপন পরিবারের জন্য ‘লজ্জা’ বয়ে এনেছিল।
গত ২৮ মে আমস্টারডাম থেকে প্রায় ২৫ মাইল উত্তর-পূর্বে লেলিস্ট্যাড নামক স্থানের একটি জলাশয়ে রায়ানের লাশ পাওয়া যায়। এর ছয় দিন আগে জুরে শহরে অবস্থিত তাদের পারিবারিক বাসা থেকে তিনি নিখোঁজ হন। তদন্তকারীরা রায়ানের নখের নিচ থেকে তার বাবা খালেদের ডিএনএ উদ্ধার করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে মৃত্যুর আগে রায়ান বাঁচার জন্য ধস্তাধস্তি করেছিলেন।
বাবার ভূমিকা ও বিচার
অভিযোগ রয়েছে, বাবা খালেদ আল নাজ্জার এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি সিরিয়ায় পালিয়ে গেছেন এবং সেখানে পুনরায় বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে। নেদারল্যান্ডসে তার অনুপস্থিতিতেই (In absentia) বিচার কার্য চলবে।
খালেদ ডাচ গণমাধ্যমে দুটি ইমেল পাঠিয়ে দাবি করেছেন যে তার ছেলেরা নির্দোষ এবং তিনি একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে প্রসিকিউটররা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, খালেদ তার ছেলেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন রায়ানকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ভারী বস্তু বেঁধে পানিতে ফেলে দিতে।
দুই ভাই আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সব দায় বাবার ওপর চাপাচ্ছেন।
পুলিশি নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা
নিহত হওয়ার কিছুদিন আগে পর্যন্ত রায়ান পুলিশের বিশেষ নজরদারিতে ছিলেন এবং তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের অল্প কিছুদিন আগেই সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, খালেদকে নেদারল্যান্ডসে ফিরিয়ে আনা নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। ডাচ বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরিয়ার সঙ্গে বর্তমানে তাদের কোনো অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর নেই। তবে সিরিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের বিচার ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল এবং তারা ইউরোপীয় দেশগুলোর আইনি অনুরোধ গ্রহণে প্রস্তুত। যদিও সিরীয় মন্ত্রীর দাবি, এই মামলার বিষয়ে নেদারল্যান্ডস থেকে তারা কোনো অনুরোধ পাননি।
ইউরোপে গত ২০-৩০ বছরে এই ধরনের ‘অনার কিলিং’ বা সম্মান রক্ষার্থে হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লাইক দিন , শেয়ার করুন
, এবং মন্তব্যে জানান আপনার মতামত!










