মৈনাক পাহাড়ের বাঁশিতে সুরের মূর্ছনা
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কক্সবাজার: ফাল্গুনের মিঠে হাওয়ায় ভেসে আসছে শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি। সাগরের নোনা জল ছুঁয়ে আসা বাতাস আজ যেন মহেশখালীর মৈনাক পাহাড়ের গায়ে এক আধ্যাত্মিক পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। আজ রবিবার, তিথি মেনে শুরু হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম আরাধ্য শ্রী শ্রী শিব চতুর্দশী পূজা ও দ্বিশতবর্ষের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মেলা।
মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত মহাদেব আদিনাথের এই আলয় আজ ভক্ত আর পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই মহামিলন মেলা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জীবন্ত দলিল।
উৎসবের আমেজ ও বৈচিত্র্য:
২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতি বছর ২ ফাল্গুন এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে দেবাদিদেব শিবের আশীর্বাদ কামনায় ঢল নেমেছে মানুষের। শুধু বাংলাদেশ নয়, সীমানা পেরিয়ে ভারত, নেপাল এবং ভুটান থেকেও হাজার হাজার পুণ্যার্থী ভিড় জমিয়েছেন এই তীর্থস্থানে।
পুণ্যার্থীদের ভিড়: পাহাড়ের আঁকাবাঁকা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকা মানুষের কণ্ঠে ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি।
পণ্যের পসরা: পাহাড়ের পাদদেশ জুড়ে বসেছে সাত দিনব্যাপী বিশাল মেলা। সেখানে মাটির তৈজসপত্র থেকে শুরু করে লোকজ হস্তশিল্প—কী নেই!
সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন: জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পর্যটকদের আনাগোনায় আদিনাথ মন্দির এলাকা এখন এক মিনি গ্লোবাল ভিলেজ।
আয়োজক ও প্রশাসনের প্রস্তুতি:
উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মেলা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন।
“প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা সুশৃঙ্খলভাবে পূজা ও মেলার আয়োজন করেছি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের জন্য থাকার সুব্যবস্থা করা হয়েছে।” — রতন কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী শিব চতুর্দশী পূজা ও মেলা কমিটি।










