Home আন্তর্জাতিক আনোয়ার ইব্রাহিম: দুই দশকের বন্দিদশা থেকে মালয়েশিয়ার মসনদে

আনোয়ার ইব্রাহিম: দুই দশকের বন্দিদশা থেকে মালয়েশিয়ার মসনদে

সিরিজ প্রতিবেদন
কারাগার থেকে ক্ষমতার শীর্ষে: যে নেতারা বদলে দিয়েছেন বিশ্ব

শামসুল  ইসলাম

আধুনিক এশিয়ার রাজনীতিতে আনোয়ার ইব্রাহিমের মতো নাটকীয় উত্থান-পতন খুব কম নেতার জীবনেই ঘটেছে। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ও উপ-প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দীর্ঘ ৯ বছরের কারাবাস—সব বাধা পেরিয়ে তিনি আজ মালয়েশিয়ার দশম প্রধানমন্ত্রী। তার জীবন এক অদম্য ধৈর্য এবং রাজনৈতিক ‘কামব্যাক’-এর মহাকাব্য।
কারাবাসের প্রেক্ষাপট: ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার লড়াই
১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সাথে এশিয়ান অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে মতবিরোধের জেরে আনোয়ার ইব্রাহিমকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং সমকামীতার বিতর্কিত অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলাগুলোকে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখা হয়েছিল। ২০০৪ সালে তিনি মুক্তি পেলেও ২০১৫ সালে আবারও তাকে কারারুদ্ধ করা হয়।
কারাগারের দিনগুলো: অপমানের বিরুদ্ধে লড়াই
শারীরিক নির্যাতন: ১৯৯৮ সালে গ্রেফতারের পর পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়, যা পরবর্তীতে ‘ব্লাক আই’ (Black Eye) ইনসিডেন্ট হিসেবে পরিচিতি পায়।
রিফর্মাসি (Reformasi) আন্দোলন: কারাগারের ভেতর থেকেই তিনি তার ‘রিফর্মাসি’ বা সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন, যা মালয়েশিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করে।
অধ্যয়ন ও পরিকল্পনা: কারাবাসের দীর্ঘ সময়ে তিনি নিয়মিত পবিত্র কোরআন, ক্লাসিক্যাল লিটারেচার এবং শেক্সপিয়র পাঠ করতেন। তিনি জেলের সময়টুকুকে নিজের রাজনৈতিক দর্শন আরও স্বচ্ছ করার কাজে ব্যবহার করেছিলেন।
ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ও প্রধানমন্ত্রিত্ব
২০১৮ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে মাহাথির মোহাম্মদের সাথে জোট বেঁধে আনোয়ারের দল জয়ী হয় এবং তিনি রাজকীয় ক্ষমা লাভ করে মুক্তি পান। তবে ক্ষমতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাতে তাকে আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হয়। ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
আমাদের জন্য শিক্ষা
আনোয়ার ইব্রাহিমের জীবন শেখায় যে, একজন নেতার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো তার ‘চরিত্রহনন’ (Character Assassination)-এর বিরুদ্ধে লড়াই করা। সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকলে দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটিয়েও জনগণের হৃদয়ে ফিরে আসা সম্ভব।