আগামীর বাংলাদেশ হবে ‘রেইনবো নেশন’: আমীর খসরু
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতিতে ‘ধর্মীয় পরিচয়’ নয়, বরং ‘বাংলাদেশি পরিচয়’ হবে নাগরিক অধিকার রক্ষার মূল ভিত্তি। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর প্যারেড মাঠে বৌদ্ধ ধর্মগুরু ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর ‘জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেন।
গতানুগতিক রাজনৈতিক বক্তৃতার বাইরে গিয়ে তিনি জোর দিয়েছেন একটি বৈষম্যহীন এবং বহুত্ববাদী সমাজ গঠনের ওপর, যাকে বিএনপি অভিহিত করছে ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি হিসেবে।
অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি এমন এক উদার গণতন্ত্রে (Liberal Democracy) বিশ্বাস করে যেখানে প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও ধর্ম থাকবে সংরক্ষিত, কিন্তু রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে সবাই হবে সমান।”দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলে গেছেন—বাংলাদেশ হবে রেইনবো নেশন। সব রঙ মিলেই যেমন একটি সুন্দর রংধনু হয়, তেমনি ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের সমন্বয়ে আমরা এক স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চাই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে দেশ অনেক অশান্তি ও বিভাজনের মধ্য দিয়ে গেলেও আগামী দিনে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে অধিকার রক্ষা করা হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না।
বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ গুরু প্রয়াত ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর অবদানের কথা স্মরণ করে আমীর খসরু আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, সমাজ এতদিন তাঁর দর্শনকে সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারেনি। তিনি বলেন:
অনুসরণীয় দর্শন: ড. জ্ঞানশ্রীর জীবনদর্শনই হতে পারে আগামীর জাতি গঠনের পাথেয়।
ঐক্যের ডাক: এখন সময় এসেছে বিভেদ ভুলে উনার আদর্শকে ধারণ করার।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজসেবক ও বৌদ্ধ ধর্মগুরু ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরো গত ১৩ নভেম্বর পরলোকগমন করেন। শুক্রবার দিনব্যাপী অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে তাঁর দেহধাতু রাউজানের বিনাজুরী শ্মশান বিহারে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এই বক্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ: ১. এটি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মনে নিরাপত্তার বোধ তৈরি করতে সহায়ক। ২. ‘রেইনবো নেশন’ ধারণার মাধ্যমে বিএনপি একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক কাঠামোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ৩. রাজনৈতিক মঞ্চে ধর্মীয় সম্প্রীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামীর রাষ্ট্র সংস্কারের একটি নীল নকশা পেশ করা হয়েছে










