আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে টালমাটাল হয়ে পড়েছে বিশ্ব বাজার। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, মেক্সিকো এবং কানাডা থেকে আমদানিকৃত সমস্ত পণ্যের ওপর ২৫% এবং চীনের ওপর অতিরিক্ত ১০% শুল্ক আগামীকাল (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে এবং ভারতীয় মুদ্রার মান রেকর্ড নিচে নেমে গেছে।
শুল্কনীতির মূল লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, মাদক পাচার (বিশেষ করে ফেন্টানাইল) এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি মূলত ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ, যা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনকে বাধাগ্রস্ত করবে।
মেক্সিকো ও কানাডা: ২৫% ঢালাও শুল্ক (জ্বালানি বাদে)।
চীন: বিদ্যমান শুল্কের ওপর আরও ১০% অতিরিক্ত শুল্ক।
ভারত: ভারতের ক্ষেত্রে শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১৮% করার একটি চুক্তির কথা শোনা গেলেও বাজারের অনিশ্চয়তা কাটেনি।
বিশ্ব বাজারের প্রতিক্রিয়া
শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগাম খবরে আজ লেনদেন শুরু হতেই এশিয়ার বড় বাজারগুলোতে আতঙ্ক দেখা দেয়।
এশীয় শেয়ারবাজার: জাপানের নিক্কেই এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক উল্লেখযোগ্য হারে পড়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ডলারের বিপরীতে নিরাপদ বিনিয়োগ খুঁজছেন।
ভারতের রুপির রেকর্ড পতন: ভারতীয় রুপি আজ মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। মূলত মার্কিন মুদ্রার শক্তিশালী অবস্থান এবং ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের আশঙ্কায় এই ধস।
পণ্যের দাম বৃদ্ধি: অটোমোবাইল, টেক্সটাইল এবং ইলেকট্রনিক্স খাতের কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, এই শুল্কের ফলে সরাসরি ভোক্তাপর্যায়ে পণ্যের দাম ১০-১৫% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
কানাডা এবং চীন ইতোমধ্যেই এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক’ শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে। কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে একটি বড় ধরণের বৈশ্বিক ‘ট্রেড ওয়ার’ বা বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত
জেপি মরগান (J.P. Morgan) এবং গোল্ডম্যান স্যাকস-এর বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই শুল্কনীতি ২০২৬ সালে বিশ্ব জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ০.৫% কমিয়ে দিতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, কারণ আমদানিকৃত পণ্যের বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত মার্কিন সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে।