দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের বহনকারী ওরিয়ন (Orion) মহাকাশযানটি নিরাপদে অবতরণ করে।
১০ দিনের এই ঐতিহাসিক মিশনে অংশ নেওয়া চার নভোচারী হলেন— মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির (CSA) নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলের অদূরে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ০৭ মিনিটে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্যারাস্যুটের মাধ্যমে সাগরে নামে।
মিশনের প্রধান অর্জনসমূহ
রেকর্ড দূরত্ব: এই মিশনে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরে ভ্রমণ করেছেন, যা গত অর্ধশতকে কোনো মানুষের পাড়ি দেওয়া সর্বোচ্চ দূরত্ব।
ঐতিহাসিক মাইলফলক: ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী এবং ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে গভীর মহাকাশ বা চন্দ্রাভিযানে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন।
ওরিয়ন মহাকাশযানের সক্ষমতা: তীব্র গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ওরিয়ন মহাকাশযানটি প্রায় ৫ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপ সহ্য করতে সক্ষম হয়েছে, যা এর সুরক্ষা ব্যবস্থার সফলতাকে প্রমাণ করে।
পরবর্তী ধাপ: আর্টেমিস-৩
আর্টেমিস-২ মিশনের এই অভূতপূর্ব সাফল্য আগামী ২০২৭ সালে পরিকল্পিত আর্টেমিস-৩ মিশনের পথ প্রশস্ত করল। সেই মিশনেই নাসা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নভোচারীদের নামানোর পরিকল্পনা করছে। অবতরণের পর নভোচারীদের ইউএসএস জন পি. মুরথা নামক জাহাজে উদ্ধার করে আনা হয় এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দ্রুত হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।