আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক আকাশ আবারও উত্তপ্ত। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও তার ওপর তেহরানের কঠোর দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান এবং পারস্য উপসাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরীর উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এটি কি কেবলই তেহরানকে চাপে রাখার কৌশল, নাকি কোনো বড় সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস? বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন।
সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত: সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতির ওপর “খুব শক্তিশালী পদক্ষেপের” হুমকি দিলেও পরক্ষণেই কিছুটা সুর নরম করেছেন। তবে এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে সামরিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া বড় কোনো ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞ মার্ক ক্যানসিয়ানের মতে, বড় যুদ্ধের বদলে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের ‘রেভল্যুশনারি গার্ড’ বা নিরাপত্তা বাহিনীর ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে “নির্বাচিত হামলা” চালাতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যয়বহুল বি-২ বোমারু বিমানের পরিবর্তে টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি।
অধ্যাপক অশোক সোয়াইন সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো বড় ধরনের হামলা হিতে বিপরীত হতে পারে। এটি কেবল আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাই বাড়াবে না, বরং ইরানি কট্টরপন্থীদের আরও শক্তিশালী করবে এবং সাধারণ মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইসমালি মনে করেন, একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপের চেয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির পথে হাঁটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
নেতৃত্ব পরিবর্তন ও বিকল্প পথ: ভেনিজুয়েলার মাদুরোকে আটকের মতো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে আটক বা হত্যার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও বিশেষজ্ঞরা একে “অবাস্তব” বলে মনে করেন। খামেনির চারপাশে থাকা দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয় এবং ইরানের ভৌগোলিক গভীরতা এই ধরনের অভিযানকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।
এর পরিবর্তে বিক্ষোভকারীদের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা সচল করা এবং সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো অ-সামরিক বিকল্পগুলোকে বেশি কার্যকর মনে করা হচ্ছে।
উপসংহার: সব মিলিয়ে, ইরানের ওপর মার্কিন চাপ এখন চরমে। ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—এমন পদক্ষেপ নেওয়া যা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করবে অথচ কোনো বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ ডেকে আনবে না। আপাতত “যুদ্ধের মেঘ” ঘনীভূত হলেও বিশ্ব তাকিয়ে আছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী চালের দিকে।










