Home চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন আটক

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন আটক

ইব্রাহীম খোকন
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর অন্যতম সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
ইব্রাহীম খোকন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বন্দরে চলমান লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করার মাত্র একদিন পরই এই আটকের ঘটনা ঘটল।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, র‍্যাবের একটি দল ইব্রাহীম খোকনকে আটক করে বন্দর থানায় সোপর্দ করেছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনসিটি টার্মিনাল আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে এই আন্দোলন জোরদার করা হয়।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হলেও নৌপরিবহন উপদেষ্টার সাথে বৈঠকের পর সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল। তবে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগে গত রোববার থেকে পুনরায় ধর্মঘট শুরু হয়। অবশেষে সোমবার সকাল ৮টা থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইব্রাহীম খোকনকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়:
সংঘাতের উসকানি: প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এড়িয়ে শ্রমিকদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
পরিকল্পিত অস্থিতিশীলতা: রোববার পাঁচ শ্রমিককে গ্রেপ্তারের পর সোমবার খোকনকে আটক করা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার একটি পরিকল্পিত উসকানি।
সন্দেহজনক পদক্ষেপ: ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর যখন বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছিল, তখন এই ধরনের আটক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। তারা অবিলম্বে ইব্রাহীম খোকনসহ গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি দাবি করেছেন।