Home আন্তর্জাতিক ইসলামাবাদে মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও হাদি চাঠা গ্রেপ্তার

ইসলামাবাদে মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও হাদি চাঠা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

শুক্রবার সকালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলের কাছে আন্ডারপাস থেকে মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি এবং তার স্বামী অ্যাডভোকেট হাদি আলী চাঠাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সকাল ৮:৩০ মিনিটের দিকে তারা যখন একটি ভ্যানে করে জেলা আদালতে যাচ্ছিলেন, তখন পুলিশ তাদের পথরোধ করে।

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ

ইমান মাজারির মা শিরিন মাজারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন যে, ইমান এবং হাদিকে পুলিশ জোরপূর্বক আলাদা গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। তিনি এই ঘটনাকে “ফ্যাসিবাদ” বলে উল্লেখ করেছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের সময় পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছে। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের (IHCBA) সভাপতি ওয়াজিদ গিলানি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান:

  • কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা দিলেও তা রক্ষা করা হয়নি।
  • পুলিশ তাদের গাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলে এবং আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায়।
  • এমনকি বারের সেক্রেটারিকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

আইনজীবী সংগঠন ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বার (IHCBA) এবং ইসলামাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশন (IBA) আজ ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে।

বার অ্যাসোসিয়েশন: তারা এই গ্রেপ্তারকে “অবৈধ এবং অসাংবিধানিক” বলে অভিহিত করেছে এবং অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

রাজনৈতিক নিন্দা: সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস জাফারি একে “রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার” বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আদালতে যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার করা ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।

মামলার প্রেক্ষাপট

প্রতিরক্ষামূলক জামিন: গত বুধবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (IHC) এই দম্পতিকে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের একটি পুরনো মামলায় দুই দিনের প্রতিরক্ষামূলক জামিন দিয়েছিল। আদালত তাদের নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

সন্ত্রাসবিরোধী মামলা: গত ২০ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বাইরে আইনজীবীদের একটি বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় ইমান মাজারিসহ প্রায় ২০০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে (ATA) মামলা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ আদালত এই মামলায় তাদের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল।

গ্রেপ্তারের পর তাদের নারী পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আইনজীবীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।