Home আন্তর্জাতিক ইসরায়েলে মোদির ‘ভাই’ সম্বোধন, কলকাতায় ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক

ইসরায়েলে মোদির ‘ভাই’ সম্বোধন, কলকাতায় ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে, ঠিক তখনই সুদূর কলকাতায় গাজা সংঘাতের প্রতিবাদে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জেরুজালেমে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করছেন, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ফল ব্যবসায়ীরা সংহতি জানাচ্ছেন গাজার নিপীড়িত মানুষের প্রতি।
জেরুজালেমে মোদি-নেতানিয়াহু ‘ভ্রাতৃত্ব’
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরায়েল গিয়ে দেশটির সংসদ ‘নেসেট’-এ এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
সফরের শুরুতে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। দুই নেতার উষ্ণ কোলাকুলি ও বন্ধুত্বের বিষয়টি ছিল চোখে পড়ার মতো। নেতানিয়াহু মোদিকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে বলেন, “নরেন্দ্র, আপনি আমাদের কাছে বন্ধুর চেয়েও বেশি—একদম ভাইয়ের মতো।” তিনি দুই দেশের বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কয়েক গুণ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ভাষণে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গাজা সংঘাতের প্রেক্ষাপটেও ইসরায়েলের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ‘আব্রাহাম চুক্তি’সহ ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনার প্রতি ইতিবাচক সমর্থন জানান।
কলকাতায় ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ ও খেজুর বয়কট
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই ঘনিষ্ঠতার মধ্যেই কলকাতার ফল ব্যবসায়ীরা এক অনন্য প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন। গাজায় সহিংসতার প্রতিবাদে পবিত্র রমজান মাসে ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম পাইকারি বাজার ‘মেছুয়া ফলপট্টি’র ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো দেশের পণ্য তারা বাজারে স্থান দেবেন না। নজরদারিতে দেখা গেছে, কিছু অসাধু চক্র ‘কিং সলেমান’ বা ‘জর্ডানের খেজুর’ নামে মোড়ক বদলে ইসরায়েলি পণ্য বিক্রির চেষ্টা করেছিল, যা ব্যবসায়ীরা প্রতিহত করেছেন। এমনকি মুম্বাই থেকে আসা কয়েকশ কার্টন খেজুর তারা ফেরত পাঠিয়েছেন।
ইসরায়েলি খেজুরের পরিবর্তে ক্রেতারা এখন ভারত, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব ও আলজেরিয়ার খেজুরের ওপর নির্ভর করছেন। অনেক সাধারণ ক্রেতা জানিয়েছেন, ভিন্ন নামে ইসরায়েলি পণ্য বাজারজাত হওয়ার আশঙ্কায় তারা দেশি খেজুর কেনাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। মেছুয়া ফলপট্টির ব্যবসায়ীরা গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এই বয়কট আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সরকারের কৌশলগত ভূ-রাজনীতি আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আবেগ ও নৈতিক অবস্থান—ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিচিত্র ও বিপরীতধর্মী সমীকরণ তৈরি করেছে।

businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।