মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের বিরতির মধ্যেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। শনিবার (১১ এপ্রিল, ২০২৬) সেরেনা হোটেলে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর দুই পক্ষ লিখিত নথি বিনিময় করেছে। মূলত চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়া এবং কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করাই এই আলোচনার লক্ষ্য।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানানো হয়েছে যে, আলোচনা এখন ‘বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। এতে অর্থনৈতিক, সামরিক, আইনি এবং পরমাণু বিষয়ক কমিটিগুলো অংশ নিয়েছে। কারিগরি খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে সেরেনা হোটেলে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সেই যুদ্ধবিরতির দুই সপ্তাহ সময়ের মধ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপের আয়োজন করা হলো।
দুই দেশের প্রতিনিধি দল
এই শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে দুই দেশের প্রভাবশালী নেতারা ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন:
যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ।
ইরান: ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বার্তায় জানিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধি দল দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রতিনিধিরা সাহসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। ফলাফল যাই হোক না কেন, সরকার সব সময় জনগণের পাশে থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা শুরুর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি আজ ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।