Home আন্তর্জাতিক ২০২৫ ছিল ইতিহাসের তৃতীয় উষ্ণতম বছর

২০২৫ ছিল ইতিহাসের তৃতীয় উষ্ণতম বছর

জলবায়ু পরিবর্তনের চরম সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সাল বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা এবং নাসার (NASA) বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫ সাল ছিল মানব ইতিহাসের রেকর্ডকৃত তৃতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণতম বছর।

বিজ্ঞানীদের মতে, শিল্পবিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও ২০২৪ সাল এখনও পর্যন্ত ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হিসেবে নিজের স্থান ধরে রেখেছে, তবে ২০২৫ সালের এই ধারাবাহিক উষ্ণতা প্রমাণ করে যে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না।

উষ্ণায়নের প্রধান কারণসমূহ:

গ্রিনহাউস গ্যাসের বৃদ্ধি: কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে পড়ার পরিমাণ বেড়েছে।

এল নিনোর প্রভাব: বছরের প্রথমার্ধে প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ (El Niño) প্রবাহের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উঁচুতে ছিল।

অব্যাহত বন উজাড়: অ্যামাজনসহ বিশ্বের বড় বনগুলো ধ্বংস হওয়ার ফলে কার্বন শোষণ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০২৫ সালে এই চরম উষ্ণতার ফলে বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সংখ্যা ছিল নজিরবিহীন। গত বছর রেকর্ড করা হয়েছে: ১. ইউরোপ ও এশিয়ায় ভয়াবহ দাবদাহ (Heatwave)। ২. উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বরফ গলনের হার বৃদ্ধি, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে। ৩. অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং অনেক দেশে দীর্ঘমেয়াদী খরা, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. এলিনা কার্টার বলেন, “২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি একটি সতর্কঘণ্টা। যদি ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ বর্তমানের তুলনায় অর্ধেক করা না যায়, তবে আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যাব যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব।”

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই রিপোর্ট প্রকাশের পর বিশ্বনেতাদের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করেন।