Home Second Lead নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘এনপিএ’-র যাত্রা শুরু: নেতৃত্বে জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণরা

নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘এনপিএ’-র যাত্রা শুরু: নেতৃত্বে জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণরা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর, যখন রাষ্ট্রের সংস্কার এবং রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে, ঠিক তখনই এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (এনপিএ)। গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাম ও মধ্যপন্থি ঘরানার একঝাঁক তরুণ ও ছাত্রনেতা এই নতুন যাত্রার ঘোষণা দেন।
নতুন নেতৃত্বের সমীকরণ
এনপিএ-র নেতৃত্বে দেখা যাচ্ছে এক বৈচিত্র্যময় সমন্বয়। তিন মুখপাত্র—ফেরদৌস আরা রুমী, তুহিন খান এবং নাজিফা জান্নাত—যাঁরা লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ। বিশেষ করে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেত্রী নাজিফা জান্নাতের অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগকারী চার শীর্ষ নেতার উপস্থিতি দলটিকে একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অবয়ব দিয়েছে। এটি স্পষ্ট যে, প্রথাগত রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে এই তরুণ নেতৃত্ব।
মূলনীতি ও রাজনৈতিক দর্শন
এনপিএ তাদের ঘোষণাপত্রে পাঁচটি স্তম্ভের কথা বলেছে: ১. গণতন্ত্র ও সাম্য ২. মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ৩. প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা।
এই নীতিগুলো নির্দেশ করে যে, দলটি কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের রাজনীতি নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের পক্ষপাতী। তাদের ভাষায়, জুলাই অভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ভেঙে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষা, যা বর্তমানে ‘পুরনো রাজনৈতিক চর্চার পুনরুত্থানে’ হুমকির মুখে পড়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কড়া বার্তা
এনপিএ-র আত্মপ্রকাশের দিনই তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি এক ধরণের সতর্কবার্তা বা সমালোচনা ছুঁড়ে দিয়েছে। সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতা, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নাগরিকের রক্ত ঝরা এবং উগ্র গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় হামলার বিষয়ে সরকারের ‘নীরবতা’ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এনপিএ একটি রাজপথমুখী এবং সিভিল সোসাইটি-ঘেঁষা ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী।
বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি
এনপিএ-র উত্থান মূলত রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের একটি প্রচেষ্টা। একদিকে পুরনো দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে এনপিএ ‘নাগরিক অধিকার’ ও ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ গড়ার ডাক দিচ্ছে। তবে ১০০ সদস্যের এই বিশাল কেন্দ্রীয় কাউন্সিল এবং বিচিত্র মতাদর্শের মানুষের এই মিলনমেলা দীর্ঘমেয়াদে কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।