দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সরাসরি ঢাকা থেকে পাকিস্তানের করাচিতে অবতরণ করলে বৃহস্পতিবার রাতে জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক আবেগঘন ও রাজকীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জিন্নাহ বিমানবন্দরে রাজকীয় অভ্যর্থনা
ফ্লাইটটি (BG341) রানওয়েতে স্পর্শ করার পরপরই বিমানবন্দরের টারমাক জুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্ন সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
ওয়াটার ক্যানন স্যালুট: বিমানটি অবতরণের পর সেটিকে রানওয়েতে ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়াটার ক্যানন স্যালুট’ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এটি এভিয়েশন সেক্টরের অত্যন্ত সম্মানজনক একটি প্রতীকী অভ্যর্থনা, যা সাধারণত কোনো নতুন রুট উদ্বোধন বা বিশেষ ঐতিহাসিক অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। দুটি অগ্নিনির্বাপক যান থেকে পানির তোরণ তৈরি করে বিমানটিকে এর নিচ দিয়ে পার করে আনা হয়।
উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা: বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর কামরান তেসোরি। তিনি পাইলট ও ক্রুদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (PAA) এই মুহূর্তটিকে দুই দেশের সম্পর্কের “একটি নতুন অধ্যায়” হিসেবে অভিহিত করেছে।
রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে সিন্ধুর গভর্নর কামরান তেসোরি ভারতের সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ সময় পর ষড়যন্ত্রের অবসান হয়েছে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ফ্লাইটের মাধ্যমে কেবল যাতায়াত নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বিশেষ করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে।
অন্যদিকে, ঢাকার বিমানবন্দরে বিদায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এই রুটটি দুই দেশের পর্যটন এবং People-to-People Link শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ফ্লাইট ও যাত্রার বিস্তারিত তথ্য
ফ্লাইট ডিটেইলস: বিমানে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট BG341 ঢাকা থেকে রাত ৮:১৫ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং করাচিতে স্থানীয় সময় রাত ১১:০৩ মিনিটে অবতরণ করে।
যাত্রী সংখ্যা: উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ (Fully Packed)।
ফ্রিকোয়েন্সি: আপাতত সপ্তাহে দুইটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং চাহিদার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ২০১০ সালে ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত বছর আগস্টে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যাত্রীদের সুবিধা
সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় এখন মাত্র ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে করাচি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে, যা আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হয়ে যাতায়াত করলে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় লাগত। এতে সময় ও খরচ—উভয়ই সাশ্রয় হবে।