বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দেওয়া চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করেছেন আদালত। মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।
আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সিআইডি-কে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে শুনানি ও নারাজি আবেদন এর আগে সকালে ডিবি পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে ‘নারাজি’ (অনাস্থা) আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। শুনানিতে বাদীর আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, “এই চার্জশিট কেবল দায়সারাভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। হাদি কোনো সাধারণ মানুষ ছিলেন না; তাকে হত্যার পেছনে অবশ্যই বড় কোনো রাজনৈতিক বা গভীর পরিকল্পনা ছিল। প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর খুনিরা কীভাবে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল (সেফ এক্সিট), তার কোনো ব্যাখ্যা ডিবি দিতে পারেনি।”
তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দেখানো হাস্যকর। পর্দার আড়ালের মূল কুশীলব ও আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর যোগসাজশ আড়াল করতেই ডিবি এমন দুর্বল চার্জশিট দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
চার্জশিটের প্রেক্ষাপট গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদকে। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, আলমগীর হোসেন এবং ফয়সালের পরিবারের সদস্যসহ মোট ১৭ জন।
চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে থাকলেও প্রধান আসামি ফয়সালসহ ৬ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছিলেন।
নিহতের পরিবারের প্রত্যাশা ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শরীফ ওসমান বিন হাদি সবসময় ন্যায়বিচারের কথা বলতেন। তাকে হত্যার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদবিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সিআইডির তদন্তে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীরা বেরিয়ে আসবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
শুনানি শেষে বিকেলে আদালত মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে ডিবি থেকে তদন্তভার সরিয়ে সিআইডি-কে দায়িত্ব দেন।