Home First Lead হাদির ওপর হামলাকারীদের পালানোর রুট ও সীমান্ত পারাপার ঘিরে নতুন তথ্য

হাদির ওপর হামলাকারীদের পালানোর রুট ও সীমান্ত পারাপার ঘিরে নতুন তথ্য

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় হামলাকারীদের পালানোর রুট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা একটি প্রাইভেট কারে করে রাজধানীর মিরপুর থেকে আশুলিয়া হয়ে গাজীপুর অতিক্রম করে ময়মনসিংহে পৌঁছায়।

ময়মনসিংহে পৌঁছে তারা ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি পরিবর্তন করে অন্য একটি প্রাইভেট কারে ওঠে এবং হালুয়াঘাট উপজেলার ধারাবাজার এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে যায়। সেখান থেকে স্থানীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় মোটরসাইকেলযোগে ভুটিয়াপাড়া সীমান্তে পৌঁছানো হয় তাদের। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই সীমান্ত দিয়েই হামলাকারীদের ভারতে পাঠানো হয় এবং সীমান্তের ওপারে আগে থেকে অবস্থান করা আরেক ব্যক্তি তাদের রিসিভ করে নিয়ে যান।

তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মোটরসাইকেলচালকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তাকে শনাক্ত করতে তদন্তকারীরা সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, হামলাকারীদের পালাতে কারা সহায়তা করেছে এবং সীমান্ত পারাপারে কোন চক্র জড়িত ছিল, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই সেই সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করা মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্য সিবিরন দিও (৩৫) ও সঞ্জয় লিপিকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং সন্ত্রাসীদের বর্তমান অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানিয়েছেন, তারা সত্যি ভারতে পালিয়ে গেছে কি না তা জানতে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে সিংগাপুরে হাদির চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতালটির চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জন ও হাদির চিকিৎসায় যুক্ত থাকা ডা. আব্দুল আহাদ গণমাধ্যমকে জানান, সিংগাপুর জেনারেল হসপিটালের ইমার্জেন্সি কমপ্লেক্সে ভর্তির পর থেকেই নিউরোসার্জারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিম যৌথভাবে তার চিকিৎসা শুরু করে। নেওয়ার পর করা ব্রেনের সিটি স্ক্যানে হাদির বাম পাশের ইস্কেমিক অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি ব্রেনে ফোলা বা ইডেমা এখনো বিদ্যমান। ব্রেন স্টেমে আঘাতের কারণে মস্তিষ্কের ভেন্টিকুলার সিস্টেমেও চাপ তৈরি হয়েছে; যা চিকিত্সকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডা. আহাদ জানান, বর্তমানে হাদির কিডনি, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস সচল আছে। তবে নিউরোলজিক্যাল রেসপন্স দৃশ্যমান কোনো উন্নতি বা অবনতি কোনোটিই লক্ষ করা যাচ্ছে না। হাদির ফুসফুসের সর্বশেষ সিটি স্ক্যানে আগের মতোই রক্তের উপস্থিতি দেখা গেছে। এ কারণেই বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় তার বুকে চেস্ট ড্রেন দেওয়া হয়েছিল। সিংগাপুরেও সেই জটিলতা মাথায় রেখেই শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যবস্থাপনা চলমান রয়েছে।

এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com