সুপ্তির দিন শুরু হয় বাথরুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটিয়ে। একবার গোসলে গেলে তার বের হতে সময় লাগে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। অফিসে যাওয়ার পথে কারো সাথে সামান্য ধাক্কা লাগলে কিংবা গণপরিবহনের হ্যান্ডেল ধরলে তার মনে হয় হাজার হাজার জীবাণু তাকে আক্রমণ করেছে। এই ভয় থেকে মুক্তি পেতে তিনি অফিসে পৌঁছেই বারবার হাত ধুতে থাকেন। তার হাত ধোয়ার প্রক্রিয়াটি সাধারণ নয়; একটি নির্দিষ্ট নিয়মে কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত সাবান দিয়ে সাতবার ধুতে হয় তাকে। যদি কোনো কারণে গণনায় ভুল হয়, তবে তিনি আবার প্রথম থেকে শুরু করেন।
এই বাতিকের কারণে সুপ্তির ব্যক্তিগত জীবন আজ বিপন্ন। অতিরিক্ত সাবান ব্যবহারের ফলে তার হাতের চামড়া ফেটে রক্তারক্তি হয়ে যায়, তবুও তিনি ধোয়া থামান না। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া তিনি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা শুরুতে বিষয়টিকে সাধারণ শুচিবায়ু মনে করলেও, বর্তমানে এটি চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এটি মূলত অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (ওসিডি)-এর একটি রূপ, যেখানে মানুষের মস্তিষ্ক তাকে বারবার একই কাজ করতে বাধ্য করে।
সুপ্তির মতো এমন হাজারো মানুষ এই অদৃশ্য যন্ত্রণায় ভুগছেন। তারা জানেন যে তাদের এই কাজগুলো অযৌক্তিক, কিন্তু মনের ভেতরের তীব্র অস্থিরতা তাদের থামতে দেয় না। সঠিক কাউন্সেলিং, বিহেভিয়ার থেরাপি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এই অবস্থা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব। সুপ্তি এখন নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। পরিচ্ছন্নতা যেন কারো জীবনের আনন্দ কেড়ে না নেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
businesstoday24.com এভাবে ফলো করুন ও মন্তব্য করুন।