শিপিং ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম সমুদ্রপথে আবারো অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আন্তর্জাতিক রফতানি রুটে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র খালি কনটেইনারের সংকট। এই সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে।
রফতানিকারকরা বলছেন, সময়মতো খালি কনটেইনার না পাওয়া এবং ফ্রেইট চার্জ অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
সিএনবিসি এবং মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুমাত্র পথ পরিবর্তনের কারণেই বৈশ্বিক শিপিং সক্ষমতা প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় খালি কনটেইনারের যোগান চাহিদার তুলনায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সংকটের নেপথ্যে বহুমুখী কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লোহিত সাগরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জাহাজগুলোর পথ পরিবর্তন করে উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে প্রতিটি ট্রিপ শেষ করতে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগছে। ফলে জাহাজগুলো নির্দিষ্ট সময়ে বন্দরে পৌঁছাতে পারছে না এবং বিশ্বজুড়ে খালি কনটেইনারের একটি বড় অংশ সমুদ্রে আটকে থাকছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এ খাতের ব্যবসায়ী ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।
শিপিং লাইন এজেন্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: “আমরা বন্দরগুলোতে খালি কনটেইনারের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখছি। বিশেষ করে চীন, ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশ থেকে রফতানি পণ্য পাঠানোর জন্য কনটেইনারের যে চাহিদা, তার বিপরীতে সরবরাহ মাত্র ৬০ শতাংশ। অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বুকিং নিতে হচ্ছে।”
সাউথইস্ট এশিয়ান এক্সপোর্টার্স কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি সাক্ষাৎকারে বলেন: “আমাদের গুদামে পণ্য মজুদ হয়ে আছে, কিন্তু বুকিং পাওয়ার পরও কনটেইনারের অভাবে আমরা জাহাজীকরণ করতে পারছি না। ফ্রেইট চার্জ গত তিন মাসে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ক্রেতারা সময়মতো পণ্য না পেলে ভবিষ্যতে আমরা বড় ধরণের ক্রয়াদেশ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছি।”
ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
লজিস্টিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে। যদি লোহিত সাগরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় এবং জাহাজ চলাচলের সময় না কমে, তবে আসন্ন উৎসবের মৌসুমগুলোতে বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ চেইন আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। রফতানিকারকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা শিপমেন্টের অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে বুকিং সম্পন্ন করেন।