Home কলকাতা কলকাতা বড়বাজারের দালালচক্র: কেনাকাটার আড়ালে প্রতারণার জাল

কলকাতা বড়বাজারের দালালচক্র: কেনাকাটার আড়ালে প্রতারণার জাল

  • সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ভুল পথে চালিত করে নির্দিষ্ট দোকানে নিয়ে যাওয়া।
  • পাইকারি দরের প্রলোভন দেখিয়ে নিম্নমানের বা নকল পণ্য গছিয়ে দেওয়া।
  • কেনাকাটার ওপর দোকানদারের থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া।
  • ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পর্যটকদের বিভ্রান্ত করে টাকা বা মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া।
কৃষ্ণা বসু, কলকাতা:
এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি বাজার কলকাতার বড়বাজার। সরু গলি আর উপচে পড়া ভিড়ের এই গোলকধাঁধায় পা রাখামাত্রই যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা হলো সুসংগঠিত দালাল চক্র। বিশেষ করে যারা বাইরের শহর বা রাজ্য থেকে প্রথমবার বড়বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন, তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে এই দালালরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার জাল বিছিয়ে রাখছে।
বড়বাজারের মহাত্মা গান্ধী রোড, বড়তলা স্ট্রিট বা ক্যানিং স্ট্রিটের মোড়ে দাঁড়ালেই দেখা যায় একদল যুবক বা মাঝবয়সী ব্যক্তি ক্রেতাদের পিছু নিচ্ছে। তাদের প্রধান অস্ত্র হলো ‘সবচেয়ে সস্তা’ বা ‘সরাসরি কারখানা থেকে মাল’ দেওয়ার প্রলোভন।
অনেক সময় নামী কোনো গদি বা দোকানের নাম জিজ্ঞেস করলে দালালরা চতুরতার সাথে বলে, “ওই দোকান বন্ধ হয়ে গেছে” বা “ওরা এখন খুব খারাপ মাল দিচ্ছে, আমার সাথে আসুন ভালো জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি।” এইভাবে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করে তারা এমন সব দোকানে নিয়ে যায়, যেখানে মালের গুণগত মান অত্যন্ত নিম্ন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দালালরা প্রতিটি বিক্রির ওপর দোকানদারের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পায়। ফলে ক্রেতা যে পণ্যটি ৫০০ টাকায় পাওয়ার কথা, দালালের উপস্থিতির কারণে দোকানদার সেটির দাম ৭০০ বা ৮০০ টাকা হাঁকেন।
ক্রেতা মনে করেন তিনি সস্তায় কিনছেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি দালালের কমিশনের টাকাও নিজের পকেট থেকে দিচ্ছেন। শাড়ি, কসমেটিকস এবং মশলার বাজারে এই দালালি প্রথা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।
এছাড়া বড়বাজারে এখন ‘ডিজিটাল দালাল’দেরও দেখা মিলছে। তারা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে বা ইউটিউব ভিডিওর নিচে নিজেদের নম্বর দিয়ে রাখে এবং বড়বাজারের ‘গাইড’ হিসেবে পরিচয় দেয়। এই ফাঁদে পা দিয়ে অনেক ব্যবসায়ী অগ্রিম টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দালালরা অনেক সময় ক্রেতাদের পকেটমারি বা ব্যাগ চুরির দিকেও ঠেলে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বড়বাজারের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বারবার সতর্ক করছে যে, কোনো অপরিচিত ব্যক্তির কথায় প্রলুব্ধ না হয়ে সরাসরি নির্দিষ্ট দোকানে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা দালালের মাধ্যমে কেনাকাটা করলে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই দালাল রাজ রুখতে সিভিল ড্রেসে পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে, তবুও বড়বাজারের অলিগলিতে তাদের দাপট এখনো অব্যাহত।
businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মতামত জানান।