Home অন্যান্য গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল: প্রবাদ যখন বাস্তবের প্রতিচ্ছবি

গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল: প্রবাদ যখন বাস্তবের প্রতিচ্ছবি

মাহবুব হাসান, চট্টগ্রাম: বাঙালি সংস্কৃতিতে অতি পরিচিত একটি প্রবাদ হল“গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল”। প্রাপ্তির আগেই ভোগের প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যঙ্গাত্মক অর্থে এটি ব্যবহৃত হলেও, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ছবি এই প্রবাদটিকে যেন নতুন এক মাত্রা দিয়েছে।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নগরীর পাহাড়ি এলাকার এক আবাসিক  এলাকায়  সাধারণ বসতবাড়ির আঙিনায় দুটি কাঁঠাল গাছ ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, ফলগুলো গাছের মগডালে নয়, বরং ঝুলে আছে একদম হাতের নাগালে, গাছের প্রধান কাণ্ডজুড়ে।
ছবির দৃশ্যটি এমন যে, এখানে কাঁঠাল খাওয়ার জন্য কাউকেই খুব একটা কসরত করতে হবে না। সাধারণত উঁচু ডালের কাঁঠাল পাড়তে মই বা লগি লাগে, কিন্তু এই গাছে কাঁঠালগুলো মাটি থেকে মাত্র কয়েক ফুট উচ্চতায় সারিবদ্ধভাবে ঝুলে আছে।
দৃশ্যটি দেখে যে কেউ রসিকতা করে বলতেই পারেন—এখানে “গোঁফে তেল” দিয়ে বসে থাকলেই চলে, কারণ ফলটি পাড়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় কাণ্ড থেকে সরাসরি ফল বের হওয়াকে ‘কউলিফ্লোরি’ বলা হয়। তবে এই নির্দিষ্ট ছবিটিতে ফলের সংখ্যা ও বিন্যাস বিস্ময়কর। নিচ থেকে শুরু করে ওপর পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ইঞ্চিতে কাঁঠালের সমারোহ। ছোট ছোট কাঁঠালগুলো বড় হওয়ার সাথে সাথে গাছের কাণ্ডটি প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। সাদা দেয়ালের একতলা বাড়িটির পাশে এই সবুজ ও কাঁঠালি রঙের বৈচিত্র্য এক নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা করেছে।
রসিকতা বনাম বাস্তবতা
প্রবাদটি আমাদের অহেতুক আগাম আশার কথা মনে করিয়ে দিলেও, এই ছবির ক্ষেত্রে তা প্রাপ্তির আনন্দকেই ফুটিয়ে তুলছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাটির উর্বরতা আর গাছের সঠিক পুষ্টির কারণেই এমন বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে।
যান্ত্রিক জীবনে আমরা যখন বাজার থেকে কেনা ফলের ওপর নির্ভরশীল, তখন বাড়ির আঙিনায় এমন “হাতের নাগালে” থাকা কাঁঠাল কেবল রসনা তৃপ্তি নয়, চোখের শান্তিও বটে। প্রবাদটি যা-ই হোক না কেন, এই গাছটি প্রমাণ করছে যে যত্ন নিলে প্রকৃতি আমাদের দুহাত ভরে দান করে।