মো. গোলাপ মিয়া, লালমনিরহাট: টাকা আর সম্পত্তির লোভ মানুষকে কতটা নিচে নামাতে পারে, তার আরও একটি বাস্তব প্রমাণ মিলল লালমনিরহাটে। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে, তথ্য গোপন করে এক কোটিপতি বিধবাকে বিয়ে করে চম্পট দিয়েছেন এক বাসার কাজের ছেলে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই পুরো জেলাজুড়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—সবখানেই এখন এই ‘কাজের ছেলের কোটিপতি হওয়ার মিশন’ নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের চন্দনপাট ময়নার চড়া গ্রামে। অভিযুক্ত যুবকের নাম আমির হোসেন, যিনি ওই এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে।
কাজের ছেলে থেকে কোটিপতি স্বামীর আসনে!
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর সদর উপজেলার বাবেন্ডা কাশিমপুর এলাকার মৃত লোকমান হোসেনের মেয়ে স্বপ্না বেগম একজন কোটিপতি বিধবা। তাঁর আগের সংসারের দুটি নাবালক মেয়ে রয়েছে। গাজীপুর সদরেই এই নাবালক মেয়ে দুটির নামে ৮ শতাংশ জমির ওপর একটি বিশাল মার্কেট এবং আরও ৬৩ শতাংশ মূল্যবান জমি রয়েছে। এই বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পেয়েই মূলত চাল খাটাতে শুরু করেন ওই বাসার কাজের ছেলে আমির হোসেন। নিজের স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন করে, মায়াবী জালে জড়িয়ে স্বপ্না বেগমকে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
তথ্য গোপন করে ৫ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ে
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের হাজীগঞ্জের কাজী অফিসে গিয়ে এই অসম বিয়ে সম্পন্ন হয়। ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ২০০৯ অনুযায়ী এই বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন কাজী আলতাফ হোসেন। আমির হোসেন অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজেকে ‘অবিবাহিত’ দাবি করে কনেকে প্রথম স্ত্রী হিসেবে রেজিস্ট্রি করান। (বহি নং ৪, পৃষ্ঠা নং ০৮, ক্রমিক নং ২৫/২৬)।
পরিকল্পনা ছিল নাবালক মেয়েদের সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার
বিয়ের পরেই আমির হোসেনের আসল রূপ প্রকাশ পেতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধবা স্বপ্না বেগমকে ঢাল বানিয়ে তাঁর দুই নাবালক মেয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির অভিভাবক হওয়ার জন্য আদালতের মাধ্যমে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন আমির হোসেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নাবালক সন্তানরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
আইনি জটিলতায় কাজী ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
এই জালিয়াতির বিষয়ে কমলাবাড়ী ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্ট্রি কাজী আলতাফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, আমির হোসেন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রতারণা করে নিজের প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করেছে। প্রথম স্ত্রী যদি এখন আমিরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা বা মামলা করেন, তবে তিনি আদালতে সমস্ত নথিপত্র দাখিল করতে বাধ্য থাকবেন।
এদিকে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া আইন অমান্য করে এবং তথ্য গোপন করে এমন জঘন্য প্রতারণার ঘটনায় ফুসে উঠেছে চন্দনপাট ময়নার চড়া গ্রামের সচেতন মহল। একজন প্রতারক যাতে নাবালক মেয়েদের কোটি টাকার সম্পত্তি কোনোভাবেই হাতিয়ে নিতে না পারে, সেজন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
নিয়মিত এমন সব চাঞ্চল্যকর ও ব্রেকিং খবরের আপডেট পেতে businesstoday24.com পেজটি ফলো করুন। এই ধূর্ত কাজের ছেলের এমন কাণ্ড নিয়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্য নিচে লিখে জানান!