এক ঘন জঙ্গলে এক বিশাল বাঘ বাস করত। সে ছিল খুব উদ্ধত এবং বনের সব প্রাণীকে ভয় দেখাত। বাঘের এক বিচিত্র অভ্যাস ছিল—সে শিকার করার পর মাংস খাওয়ার চেয়ে হাড় চিবুতে বেশি পছন্দ করত। একদিন হাড় চিবুতে গিয়ে একটি ধারালো হাড়ের টুকরো তার গলার গভীরে আটকে গেল। বাঘ যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগল, কিন্তু হাড়টি বের করতে পারল না।
সে বনের সব প্রাণীকে ডেকে বলল, “যে আমার গলা থেকে এই হাড়টি বের করে দেবে, তাকে আমি বড় পুরস্কার দেব এবং কোনোদিন তার ক্ষতি করব না।”
কেউ সাহস করল না। অবশেষে এক চতুর কাঠঠোকরা রাজি হলো। বাঘ তার বিশাল মুখ হা করল। কাঠঠোকরা প্রথমে সতর্কতার সাথে একটি লম্বা কাঠি দিয়ে বাঘের মুখের ভেতরের অংশের হাড়টিকে আলগা করল। তারপর সে চট করে তার নিজের লম্বা, শক্ত ঠোঁট দিয়ে হাড়টি টেনে বের করে আনল। বাঘ যন্ত্রণামুক্ত হলো এবং হাঁফ ছাড়ল।
কাঠঠোকরা যখন তার পুরস্কার চাইল, তখন উদ্ধত বাঘ তার আসল স্বভাবে ফিরে এল। সে কাঠঠোকরাকে তাচ্ছিল্য করে বলল, “পুরস্কার? তুমি আমার মুখের ভেতর মাথা ঢুকিয়েছিলে, আর আমি তোমাকে চিবিয়ে খাইনি—সেটাই তো তোমার বড় পুরস্কার! যাও, পালাও!”
কাঠঠোকরা কোনো কথা না বলে বাঘের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ উড়ে চলে গেল। কিছুদিন পর, বাঘ যখন শুয়ে ঘুমোচ্ছিল, তখন চতুর কাঠঠোকরা তার সবচেয়ে শক্ত ঠোঁট দিয়ে বাঘের কানের পেছনের অংশে ক্রমাগত ঠোকড় দিতে শুরু করল। বাঘের চামড়া ছিল খুব শক্ত, কিন্তু অনবরত ঠোকড়ের কারণে সেখানে ক্ষত তৈরি হলো এবং অসহ্য যন্ত্রণা হতে লাগল। বাঘ বারবার চেষ্টা করেও কাঠঠোকরাকে ধরতে পারল না। সে যন্ত্রণায় পাগল হয়ে ক্ষমা চাইল।
কিন্তু কাঠঠোকরা শান্তভাবে বলল, “তুমি সেদিন বলেছিলে তোমাকে না খাওয়াই পুরস্কার। আজ আমার এই ঠোকড়ই তোমার শাস্তি। যারা উপকারী লোকের অবজ্ঞা করে, তাদের অহংকার এভাবেই চূর্ণ হয়।” এই বলে সে নিজের ইচ্ছেমতো উড়ে চলে গেল।