Home আন্তর্জাতিক কাবা শরীফের কোল ঘেঁষে আধুনিক শহর প্রকল্প : ‘কিং সালমান গেট’

কাবা শরীফের কোল ঘেঁষে আধুনিক শহর প্রকল্প : ‘কিং সালমান গেট’

ছবি সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লাখো মুসলিমের আজন্ম লালিত স্বপ্ন পবিত্র কাবার সামনে দাঁড়ানো। সেই স্বপ্নকে আরও আরামদায়ক ও সহজলভ্য করতে সৌদি সরকার চালু করছে ‘কিং সালমান গেট’। বিশেষ করে পাকিস্তান থেকে আসা ক্রমবর্ধমান হজযাত্রীদের জন্য এটি হবে এক অনন্য উপহার।
২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি নাগরিক হজ পালন করেছেন। এছাড়া ২০২২ সালে উমরাহ মৌসুমে পাকিস্তান থেকে প্রায় ২ লাখ মানুষ মক্কা সফর করেন, যা বিশ্বতালিকায় দ্বিতীয়। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত ও অবস্থানকে সুশৃঙ্খল করতে ১২ মিলিয়ন বর্গমিটার এলাকাজুড়ে নির্মিত হচ্ছে এই মেগা প্রজেক্ট।
কিং সালমান গেট-এর প্রধান আকর্ষণসমূহ:
বিশাল ধারণক্ষমতা: এখানে প্রায় ৯ লাখ মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
মসজিদুল হারামের সরাসরি দৃশ্য: প্রকল্প এলাকা থেকে পবিত্র মসজিদুল হারামের সরাসরি ভিউ পাওয়া যাবে, যা ইবাদতের পরিবেশে যোগ করবে বিশেষ প্রশান্তি।
উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা: হজযাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে থাকছে ইন্টিগ্রেটেড ট্রান্সপোর্ট লিঙ্ক, পাবলিক ট্রানজিট এবং রোদ থেকে বাঁচতে ছায়াযুক্ত প্রশস্ত হাঁটার পথ।
আবাসন ও বাণিজ্যিক সুবিধা: আরামদায়ক অবস্থানের জন্য চার ও পাঁচ তারকা হোটেলসহ প্রিমিয়াম আবাসন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ২ লাখ বর্গমিটার এলাকায় কেনাকাটা ও খাবারের জন্য থাকবে আধুনিক শপিং মল ও রেস্তোরাঁ।
আধ্যাত্মিকতা ও আধুনিকতার সমন্বয়
২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত এই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো মক্কার পবিত্রতা রক্ষা করে আধুনিক প্রযুক্তি ও আতিথেয়তার সমন্বয় ঘটানো। বয়স্ক এবং পরিবারের সাথে আসা যাত্রীদের জন্য এখানে বিশেষ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। কিং সালমান গেট-এর মাধ্যমে এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মুসলিমরা আরও মর্যাদা ও শান্তির সাথে তাদের পবিত্র ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
‘কিং সালমান গেট’ প্রকল্পটি বর্তমানে এর প্রাথমিক উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন ও মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করেছেন।
বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে এটি একটি লঞ্চড প্রজেক্ট (Launched Project)। এর মাস্টারপ্ল্যান এবং নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ‘রুয়া আলহারাম আলমাক্কি’ (Rua AlHaram AlMakki) কোম্পানি এর নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছে।
শেষ হওয়ার সময়সীমা: সৌদি সরকার এখনও এই প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কোনো সমাপ্তির তারিখ (Final Completion Date) ঘোষণা করেনি। তবে এটি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক: প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্যে জানানো হয়েছে যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩৬ সালের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, প্রকল্পের বড় একটি অংশ ২০৩০ থেকে ২০৩৬ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।
কেন এটি সময়সাপেক্ষ: ১২ মিলিয়ন বর্গমিটারের এই সুবিশাল প্রকল্পে ১৬,০০০টি হোটেল রুম, ৫০,০০০টি আবাসিক ইউনিট এবং ৯ লাখ মানুষের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইবাদতের জায়গা তৈরি হবে। মসজিদুল হারামের সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় অত্যন্ত স্পর্শকাতরতা ও নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।