Home কৃষি বাজারে নকল ও নিষিদ্ধ কীটনাশকের ছড়াছড়ি

বাজারে নকল ও নিষিদ্ধ কীটনাশকের ছড়াছড়ি

ছবি: এ আই

বিষের ছায়ায় কৃষি ও জনস্বাস্থ্য: পর্ব-৭

তারিক-উল-ইসলাম, ঢাকা: বাংলাদেশের কৃষি এখন এক অদৃশ্য বিপদের মুখোমুখি। মাঠের ফসল যেমন, তেমনি ভোক্তার খাবারের নিরাপত্তা আজ বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বাজারে ছড়ানো নকল ও নিষিদ্ধ কীটনাশকের দৌরাত্ম্য। বছরের পর বছর ধরে এই বাজার নিয়ন্ত্রণের নানা উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে খুব একটা বদল আসে না। ফলে গ্রামীণ হাট থেকে শুরু করে শহরের পাইকারি বাজার পর্যন্ত সর্বত্র সহজেই মিলছে ক্ষতিকর রাসায়নিকের বোতল, যেগুলোর বেশিরভাগই সরকারি নিবন্ধনবিহীন বা সরাসরি নিষিদ্ধ।

কৃষকরা অধিক ফলনের আশায় কিংবা পোকামাকড় দ্রুত দমনে এসব কমদামি ও সহজলভ্য কীটনাশকের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। কিন্তু তারা জানেন না—এই রাসায়নিকগুলো শুধু পোকাই মারে না, মাঠের মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, নদীতে পৌঁছালে মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়। আরও ভয়াবহ, এসব বিষাক্ত অবশিষ্টাংশ ফসলের ভেতর লুকিয়ে থেকে মানুষের দেহে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বাংলাদেশে বর্তমানে অনুমোদিত কীটনাশকের সংখ্যা কয়েকশ হলেও মাঠে পাওয়া যায় তার চেয়ে অনেক বেশি ব্র্যান্ড। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, বছরে কোটি কোটি টাকার নকল কীটনাশক বাজারে ঢুকে যায়, যার বড় অংশই সীমান্তপথে আসে। বোতলের লেবেলে নাম থাকলেও ভেতরের রাসায়নিকের গঠন অনেক সময় মেলে না। কখনো নিষিদ্ধ অর্গানোফসফেট বা কার্বামেট গ্রুপের অত্যন্ত বিষাক্ত উপাদান, আবার কখনো পানির সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা নিম্নমানের দ্রবণ—সবই সমান ঝুঁকিপূর্ণ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, মাঠপর্যায়ে জনবল কম থাকায় হাটবাজারে নিয়মিত তদারকি সম্ভব হয় না। অন্যদিকে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আইনগত দুর্বলতা আর কৃষকদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে এই বিপজ্জনক বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক জেলা থেকে জানা গেছে, অনেক কৃষক নকল কীটনাশক ব্যবহারের পর ফাঁকি খেয়ে আবার দ্বিগুণ মাত্রায় স্প্রে করেন, ফলে একই জমিতে রাসায়নিক জমে গিয়ে মাটি ও পানির ওপর বাড়ে চাপ।

এই বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠোর করা, সক্রিয় তদারকি বাড়ানো, সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা এবং কৃষকদের সচেতন করা। কারণ, কৃষি শুধু উৎপাদনের বিষয় নয়; এটি মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

সতর্কতার আলোর বদলে যদি নকল ও নিষিদ্ধ কীটনাশকের অন্ধকার বাড়তেই থাকে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো কৃষি ব্যবস্থা। আর সেই ক্ষতির দায় নেবে কে—কৃষক, ভোক্তা, না রাষ্ট্র? এই প্রশ্নের উত্তরই এখন সময়ের দাবি।

লাইক দিন 👍, শেয়ার করুন 🔁, এবং মন্তব্যে জানান আপনার মতামত!