নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম: প্রকৃতি যেন তার রুদ্রমূপ নিয়ে জেঁকে বসেছে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে। একদিনের বিরতি দিয়ে আবারও শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।
উত্তর দিক থেকে ধেয়ে আসা কনকনে হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ। সব মিলিয়ে এক হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত।
মধ্যরাত থেকেই জেলাজুড়ে শুরু হয় কুয়াশার দাপট, যা স্থায়ী থাকে পরদিন সকাল অবধি। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। দুপুরের দিকে সূর্যের দেখা মিললেও তা খুব একটা স্বস্তি দিতে পারছে না। প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে এবং জেলা আবার হিমশীতল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
শীতের এই তীব্রতা সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে কুড়িগ্রামের খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী এলাকার শ্রমিক আয়নাল হক আক্ষেপ করে বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭-১৮ ঘণ্টাই ঠান্ডা থাকে। কাজ না করলে পেট চলে না, আবার বাজারেও সব জিনিসের আগুন দাম। আমরা খুব চিন্তায় আছি।”
শ্রমজীবীদের পাশাপাশি কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। রাজারহাটের কৃষক আমিন মিয়া জানালেন, শৈত্যপ্রবাহের কারণে আলুর ক্ষেত নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফসল বাঁচাতে অতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগ করতে গিয়ে বিঘা প্রতি প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। ন্যায্য দাম না পেলে ঋণের বোঝা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
তীব্র শীতের সমান্তরালে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। জেলা সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলার হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং উত্তরীয় বাতাসের কারণে এই তীব্র শীত আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।
একনজরে কুড়িগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি:
| সূচক | তথ্য |
| সর্বনিম্ন তাপমাত্রা | ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১১ জানুয়ারি) |
| বাতাসের আর্দ্রতা | ৯৯% |
| সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত | শিশু, বয়স্ক এবং দিনমজুর |
| কৃষি প্রভাব | আলু ও শীতকালীন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা |
শীতের এই কঠিন সময়ে বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।










